ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণে আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আংশিক অনুমোদন দিয়ে দুই কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, তিন কার্গো এলএনজি ক্রয়ের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা (এআইটি-সহ)।
এর মধ্যে অনুমোদিত দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালীতে চলমান সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
দেশের এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে কিছু চালান পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তির ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগ করছে। অর্থাৎ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এ অবস্থায় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জুন মাস এবং জুলাইয়ের প্রথম দিকের জন্য দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এলএনজি কার্গো ক্রয়ের পর তা দেশে পৌঁছাতে এবং খালাস করতে নির্দিষ্ট সময় লাগে।
তিনি বলেন, তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সরকার এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি দামের কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা থাকায় পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কোনও চালান দেশে পৌঁছালে বা বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে একটি কার্গোর ক্ষেত্রে আপাতত অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত বিভিন্ন সূচক ও পূর্ববর্তী কয়েক মাসের গড় দামের ভিত্তিতেই ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংকট ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
বিডি প্রতিদিন/একেএ