ফুটবলে তারকা বলতে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের নামই বোঝায়। ডিফেন্ডারদের নামও উচ্চারিত হয়। গোলরক্ষক থেকে যান আড়ালে। দুনিয়া কাঁপানো বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কত খেলায় কত দল হার ঠেকিয়েছে তার হিসাব মেলানো মুশকিল। অথচ বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন এমন গোলরক্ষকের সংখ্যা একেবারে কম নয়। গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে তাঁরাও বিশ্ব কাঁপাতে পারেন তার প্রমাণ দিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে দেশটি। কেপ ভার্দে নামে পৃথিবীতে যে একটি দেশ আছে তা বিশ্বকাপের আগে অনেকেই জানতেন না। ৯০ মিনিট ম্যাচ খেলে কেপ ভার্দে এখন সবার চেনা। আর তা ভোজনিয়ার কল্যাণে। এ কথা বলার পেছনে যুক্তিও রয়েছে। কেননা এক ম্যাচ খেলেই সমাজমাধ্যমে সোমবার পর্যন্ত তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩০ লাখ বেড়েছে। এমনটি কখনো ঘটেছে অভিষেক ম্যাচে?
বিশ্বকাপের আরেক নতুন দেশ কুরাসাও তাদের প্রথম ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে হেরে যায়। কেপ ভার্দে যখন একবারের চ্যাম্পিয়ন ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামে, স্বাভাবিক ধারণা ছিল অভিষেকে গোলের বন্যায় ভেসে যাবে। আমারও ধারণা ছিল তাই। তবে ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ লিখে ছিলাম, কেপ ভার্দে চমক দেখাতে পারে। মূলত বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ওদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেই ধারণা তৈরি হয়েছিল। তার মানে এটা বলছি না যে স্পেনকে রুখে দেওয়ায় আমার লেখাটা বাস্তবে মিলে গেল।
সত্যি বলতে এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী দেশ স্পেন প্রথম ম্যাচে ড্র করবে তা কেউ ভাবেননি। যেভাবে একের পর এক আক্রমণ করছিল তাতে তো মনে হচ্ছিল গোল উৎসব করে মাঠ ছাড়বে। পারেনি, চমক দেখিয়েছেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বলতে পারেন ফুটবল তো ১১ জনের খেলা, এখানে শুধু গোলরক্ষকের কৃতিত্ব কীসের? আসলে তো খেলাটা হয়েছে স্পেন বনাম ভোজিনিয়ার মধ্যে। বলতে গেলে কেপ ভার্দের বাকি ১০ জন দাঁড়িয়ে সময় পার করেছেন। আক্রমণের পর আক্রমণ, মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মতো। সবাইকে টপকে গেলেও শুধু ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। চীনের প্রাচীর নয়, একে আমি বলতে চাই ভোজিনিয়া প্রাচীর।
একজন গোলরক্ষক কত আর গোল রক্ষা করতে পারেন। নিশ্চিত করে বললে তো অন্তত পাঁচবার বল কেপ ভার্দের জাল স্পর্শ করতে পারত। ভোজিনিয়া তা হতে দেননি। গ্যালারি বা টিভি দর্শকের চোখ ছিল ৪০ বছর বয়স্ক এই গোলরক্ষকের দিকে। হাত, পা, মাথা, বুক এমন কোনো জায়গা নেই যে ভোজিনিয়া তা কাজে লাগাননি। এভাবেই দেশকে এনে দিয়েছেন ঐতিহাসিক এক ড্র, যা অনেক দিন আলোচনা হবে। ৯০ মিনিট খেলেই হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের মহানায়ক। যেখানে বল সেখানে ভোজিনিয়া। অদ্ভুত এক পজিশন জানা গোলরক্ষকের দেখা মিলল বিশ্বকাপে।
লেভইয়াসিন, গর্ডন ব্যাংকস, দিলো জফ, অলিভারকান, গউন ব্যাংকস, বুফনের মতো বিখ্যাত গোলরক্ষকের দেখা মিলেছে বিশ্বকাপে। এঁদের মধ্যে কেউ আবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই এমনভাবে মন জয় করেছেন সেই নাম এখন ভোজিনিয়া। সত্যিই তাঁর পারফরম্যান্সে বিশ্ব মুগ্ধ।