দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহের চাহিদা মেটাতে শিল্প মন্ত্রণালয় পৃথক তিনটি প্রস্তাবে ৮০ হাজার টন সার ও চট্টগ্রামের টিএসপিসিএলের জন্য রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ৭০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯৭৭ টাকা।
বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাব তিনটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) অনুসরণে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির দরপ্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। গত ২০২৬ সালের ৪ জুলাই ডেলটা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এফএস, ইউএই ও তাদের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পিজেএসসি আরকন, রাশিয়া সার সিএফআর ভিত্তিতে ডিপিএমের মাধ্যমে সরবরাহের জন্য দরপ্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাবটি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে বিসিআইসির বিদ্যমান জিটুজি চুক্তির প্রাইস ফর্মুলা অনুসারে সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
১ম লটে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে প্রতি টনে ৬৭৫.৮৩ ডলার হিসেবে মোট ২ কোটি ৭০ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪৮ কোটি ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয় হবে।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি, সৌদি আরব থেকে ১৯তম লটে ২৫ হাজার টন (+১০%) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি, সৌদি আরব থেকে ৩.৩০ লাখ টন এবং আপদকালীন ও জরুরি পরিস্থিতি এবং দেশীয় কারখানায় সারের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও ৩.০০ লাখ টনসহ মোট ৬.৩০ লাখ টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুসারে সমুদয় সার আমদানি করা হয়। সাবিক-সৌদি আরবকে অতিরিক্ত অপশনাল ২ লাখ টন সার সরবরাহের প্রস্তাব করা হলে সাবিক কর্তৃপক্ষ জানায় বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত ২ লাখ টন সম্পূর্ণ সার সরবরাহ করা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে সর্বোচ্চ পরিমাণ সার সরবরাহ দিতে আন্তরিক থাকবে। পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ১৯তম লটে ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সারের চুক্তির শর্তানুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি টন ৬০০.৮৩ ডলার। সে হিসাবে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮৫ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৪৩৭ টাকার প্রয়োজন হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরিয়া সার ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ লাখ টন।
সভায় চট্টগ্রামের টিএসপিসিএলের জন্য ১৫ হাজার টন (+১০%) রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিএসপি কমপ্লেক্স লি., চট্টগ্রামের উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ হাজার টন (+১০%) রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশ করা একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্যবসস্কো কন্সট্রাকশন লি. সিসিলিস (প্রস্তুতকারক: তাইওয়ান/তুর্কেমেনিস্তান/নরওয়ে/কাজাকিস্থান/ওমান/ইউএসএ/ইউএই/ইরাক/ইন্ডিয়া) থেকে ১৫ হাজার টন রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৭১ কোটি ১ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকা। প্রতি টনে দাম পড়বে ৮৭৩ ডলার। বর্তমানে রক সালফার মজুত আছে মাত্র ৬৭৪ টন।
বিডি-প্রতিদিন/জেডআর