‘ব্রাশিং’ শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝকঝকে দাঁত কিংবা পরিপাটি চুলের ছবি। কিন্তু যদি বলা হয়, মুখের ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে ও উজ্জ্বলতা পেতে এখন বড় ট্রেন্ড হলো এক টুকরো ‘ব্রাশ’? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। দেহত্বকের যত্নে ‘ড্রাই ব্রাশিং’ বা শুকনো ব্রাশ ব্যবহারের চল বহু পুরোনো হলেও সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের হাত ধরে এই জাদুকরী ফর্মুলা এখন জায়গা করে নিয়েছে মুখের ত্বকেও। যাকে বলা হচ্ছে ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশিং...
স্কিনকেয়ারের সিংহভাগ উপকারিতা ত্বকের গভীরে পৌঁছেই না শুধুমাত্র সঠিক এক্সফোলিয়েশনের অভাবে। ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশিং ঠিক এখানেই ভালো কাজ করে-
♦ ব্রাশের আলতো ছোঁয়া ত্বকের নিচের লিম্ফেটিক সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে জমে থাকা টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখের যে ফোলা ভাব থাকে, তা দূর হয়।
♦ কোনো কেমিক্যাল ছাড়াই এটি ত্বকের উপরিভাগের মৃতকোষের স্তরকে আলতো করে সরিয়ে দেয়। ফলে আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে দাগছোপমুক্ত, দাগহীন এক নতুন উজ্জ্বল ত্বক।
♦ ব্রাশিং করার পর ত্বক একদম প্রস্তুত হয়ে যায়। এর ফলে আপনি যখন পরবর্তী সময়ে সেরাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন, ত্বক তা স্পঞ্জের মতো দ্রুত শুষে নেবে।
মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই বডি ব্রাশ দিয়ে মুখে ভুলেও ঘষাঘষি করা যাবে না। সব সময় প্রাকৃতিক আঁশ দিয়ে তৈরি নরম ফেস ব্রাশ বেছে নিন। এটি স্পর্শকাতর ত্বকের জন্যও একদম নিরাপদ। গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির ব্রাশগুলো মুখের জন্য সেরা, কারণ এগুলো নাকের পাশ বা চিবুকের মতো মুখের কঠিন ভাঁজগুলোতেও সহজে পৌঁছতে পারে। তা ছাড়া হাতলওয়ালা ব্রাশও বেছে নিতে পারেন।
ড্রাই ব্রাশিংয়ের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এর সঠিক স্ট্রোকে। মুখ ধুয়ে একদম শুকিয়ে নেওয়ার পর, চুল পেছনে বেঁধে শুরু করুন-
♦ [কপাল] মাঝখান থেকে একবার ডানে, একবার বামে স্ট্রোক।
♦ [চোখের চারপাশ] ভ্রুর ওপর থেকে শুরু করে চোখের চারপাশে আলতো বৃত্তাকার গতি।
♦ [নাক] ডগায় সার্কুলার মোশন, এরপর নিচ থেকে ওপরে ভ্রুর মাঝখান পর্যন্ত।
♦ [ঠোঁটের ওপর] মাঝখান থেকে একবার ডানে, একবার বামে আউটওয়ার্ড স্ট্রোক।
♦ [গাল] সার্কুলার মোশনের সঙ্গে ওপরে ও বাইরের দিকে।
♦ [চিবুক] ছোট ছোট স্ট্রোকে ইনভার্টেড ‘ট’ (উল্টো ট) আকৃতিতে
♦ [গলা] (শুরু এখান থেকেই) নিচ থেকে ওপরের দিকে।
♦ গোল্ডেন রুল : মুখের প্রতিটি অংশে সর্বোচ্চ পাঁচবার করে ব্রাশ বোলাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত হালকা হাতে করতে হবে, কোনো চাপাচাপি বা টানাটানি করা যাবে না।
প্রতিদিন বডি ব্রাশ প্রতিদিন করলেও মুখের জন্য নিয়মটা ভিন্ন- শুষ্ক, স্বাভাবিক ও পরিপক্ব ত্বকে সপ্তাহে ২ দিন। আর তৈলাক্ত ত্বকে সপ্তাহে ৪ দিন পর্যন্ত করা যেতে পারে।
লেখা : রেদওয়ান মাহফুজ