চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে নিহতের ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে শনাক্ত হওয়া পাঁচজন অস্ত্রধারীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের প্রয়াত আবদুল খালেকের ছেলে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার রাতে নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার সব আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া পাঁচজন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া জাকির মিয়াসহ মোট ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মাসুদুল হক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, হামলায় অংশ নেয়া পাঁচজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন মাসুদ। পরে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে দুজন হামলাকারী ফিরে এসে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল