চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫২৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশু ৬৭ হাজার ৭৬৮ জন ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু ৪৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬১ জন।
আগামী ২৮ জুন চট্টগ্রাম বিভাগেও দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।ক্যাম্পেইন চলাকালীন ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আই.ইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আই.ইউ) খাওয়ানো হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ওরিয়েন্টেশন ও পরিকল্পনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টি সেবা বাস্তবায়নে বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সভাটির আয়োজন করে।
সভায় বলা হয়, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইন সফল করতে হবে। কোনও শিশু যাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক থাকতে হবে। অসুস্থতার কারণে ৬-৫৯ মাস বয়সী কোন শিশু যদি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ পড়ে তাকে সুস্থতা পরবর্তী এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
সভায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু স্বাস্থ্য) ডা. মাহমুদা আক্তার। রিসোর্স পারসন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দিন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইনামুল হাছান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি লোপামুদ্রা, ইউনিসেফ’র হেড অব জোন মিস মাধুরী ব্যানার্জী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশেনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তপন চক্রবর্তী, ইউনিসেফ’র নিউট্রিশন কর্মকর্তা ডা. উবাসুই প্রমুখ।
ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরনের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম