এল নিনোর ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং গত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে রূপ নিতে পারে। গতকাল এক বিবৃতিতে আবহাওয়া ব্যুরো বলেছে, অঞ্চলটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলীয় বিভিন্ন সূচকও এটি শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্রান্তীয় মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শক্তিশালী থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় অর্ধেক গাণিতিক মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা এল নিনোগুলোর মধ্যে এবারেরটি তীব্রতার দিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ আবহাওয়ার প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং এশিয়ায় প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে এশিয়ায় ফসল রোপণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো বলছে, এল নিনোর প্রভাবে শীত ও বসন্তকালে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এটি বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রভাব ফেলে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দেশটির জন্য এ আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষতিকর। -আলজাজিরা
কারণ এটি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারের এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী ও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
ঐতিহাসিকরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে অতীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে ১৮৭৭ এবং ১৮৭৮ সালের দুর্ভিক্ষ উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলছে, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি পর্যায়। এটি সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর দেখা দেয়। একেকবার এটি ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। গত ২ জুনের সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো ঘটার ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এটি নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি রয়েছে। ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনের পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জানান, এমন পরিস্থিতিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কতা’ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এটি সমাধানের জন্য বর্তমান সংকটের সমানুপাতিক জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার অবসান ঘটানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ত্বরান্বিত করা, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সবার জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। -আলজাজিরা