ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে বিড়ালের মাংসের একটি বড় চোরাকারবারি চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চার শতাধিক চুরি হওয়া বিড়াল উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। পশুকল্যাণ সংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পোষা প্রাণী চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে গত সপ্তাহে বেশ কয়েক দিন ধরে চলা এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, হো চি মিন সিটির অপরাধ দমন শাখা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৫টি খাঁচায় বন্দি অবস্থায় প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করে। এ ছাড়া চারটি বরফভর্তি ফোমের কনটেইনার থেকে প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি আস্তানা থেকে আরও ২১টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে ৯ জনকে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, তারা গত তিন বছর ধরে হো চি মিন সিটি, তে নিন এবং আন গিয়াংসহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফাঁদ পেতে বা সুকৌশলে মানুষের পোষা বিড়াল চুরি করে আসছিল।
উদ্ধার অভিযানের পর গত কয়েক দিনে ৪০টিরও বেশি বিড়ালকে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নির্মম পরিস্থিতিতে খাঁচায় বন্দি থাকায় উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতোমধ্যে মারা গেছে। পশুকল্যাণ সংস্থা ‘ভিয়েতনাম ক্যাট ওয়েলফেয়ার’-এর প্রতিনিধি ক্রিস গিন্ডেলহুমার জানান, বহু ভিয়েতনামি পরিবার চোখের জল মুছতে মুছতে তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় পোষা প্রাণীটিকে খুঁজতে আসছে। অনেক পরিবার তাদের বিড়ালকে ফিরে পেয়ে আনন্দে ভাসলেও, যারা পাননি তাদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বর্তমানে অসংখ্য পশুচিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর চিকিৎসায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস’-এর কর্মকর্তা করণবীর কুকরেজা এক বিবৃতিতে বলেন, এই অভিযান ভিয়েতনামে বিড়ালের মাংসের ব্যবসার বিশাল ও ভয়াবহ রূপটিকে আবারও সামনে এনেছে। সেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ কুকুর ও বিড়াল রাস্তা থেকে কিংবা মানুষের বাড়ি থেকে চুরি করে খাওয়ার জন্য জবাই করা হয়।
ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনগতভাবে বৈধ হলেও বিক্রেতাদের জন্য প্রাণীর উৎসের বৈধ অনুমতিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। তবে দেশটির ‘হোই আন’-এর মতো কিছু শহর ইতোমধ্যে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক পশুকল্যাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ করার পর ভিয়েতনামের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে, পোষা প্রাণীদের সুরক্ষা এবং মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে তারা দেশের আইনি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি