যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান কৌশলগতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ও প্রভাব দেখাতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি কাতারের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই সংঘাতে ইরানও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামরাভা বলেন, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল- দুই পক্ষকেরই নাক ভেঙে রক্তাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান প্রমাণ করেছে যে, হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তাদের হাতে একাধিক চাপ প্রয়োগের উপায় রয়েছে।”
তিনি বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ইরান এমন কিছু কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা বড় শক্তিগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কামরাভা ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কোনও বড় শক্তিই অতীতে তুলনামূলক দুর্বল কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে সহজে বিজয় ঘোষণা করতে পারেনি।
তিনি বলেন, “ইতিহাসে দেখা গেছে, বড় শক্তিগুলো দুর্বল রাষ্ট্রে হামলা চালিয়ে কখনওই সহজে বিজয় ঘোষণা করতে পারেনি- ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা গেছে।”
তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, এসব সংঘাতে দুর্বল পক্ষও নিজেদের বিজয় দাবি করতে পারেনি।
তার ভাষায়, “তবে আমি মনে করি না ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান বা ইউক্রেনও নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করতে পেরেছে।”
কামরাভা বলেন, বড় শক্তিগুলো সাধারণত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের ক্ষতি চাপিয়ে দেয়। ইরানের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “বড় শক্তি ব্যাপক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি করতে সক্ষম হয়। আর এই যুদ্ধের কারণে ইরান যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা অস্বীকার করা কঠিন।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কামরাভার মন্তব্যে যুদ্ধের দুই দিকই উঠে এসেছে- একদিকে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা, অন্যদিকে শক্তিশালী সামরিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে দেশটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবতা। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/একেএ