রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। গতকাল এ সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) কার্যতালিকায় আসার পর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত রবিবার তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাই কোর্ট। তার আগে রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত নথি হাই কোর্টে এসে পৌঁছে। এরপর দুই আসামি হাই কোর্টে জেল আপিল করেন।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাই কোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দিতে বলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওই দিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে এক দিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়। গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।