ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ও প্রশাসক নিয়োগের মধ্যেই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও তীব্র আন্দোলন শুরু করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। গতকাল মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে সাত দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতারা ।
সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন-নবী স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপিতে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। এর আগে গত রবিবার রাতে ব্যাংকটির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাশাপাশি তারল্যসংকট মোকাবিলায় ব্যাংকটিকে ২৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এক ডেপুটি গভর্নরকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ ও সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের পর দেশজুড়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে অনেক গ্রাহক বিভিন্ন শাখা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। কোনো কোনো শাখা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা দিতে না পারায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান সমস্যা অর্থের অভাবে নয়, বরং জনগণের আস্থার সংকট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা আমানত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহকদের মনে আবার ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সংকট কাটাতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নিচের দাবিগুলো পেশ করা হয়েছে; এক. পেশাদার পর্ষদ গঠন : অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দুই. প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর : ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দিতে হবে। তিন. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন : আওয়ামী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। চার. স্থিতিশীলতা ও অপপ্রচার রোধ : ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাঁচ. লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত : বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধ করতে হবে।
ছয়. আইন সংশোধন : ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটেরা, তাদের পরিবার ও সুবিধাভোগীদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালক পর্ষদে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। সাত. সংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার : জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রদত্ত বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।