ভালো শুরু পাওয়ার পরও বড় হলো না সংগ্রহ। এলোমেলো ব্যাটিংয়ের কারণে ১৩১ রানের পুঁজি নিয়ে খুব একটা লড়াই করতে পারলো না বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারল ৪ উইকেটে। ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে পেস দিয়ে ঘায়েল করেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজে এবার তারা নিজেরাই ঘায়েল হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার পেসে নয়, বরং স্পিন দিয়েই বাংলাদেশকে কাবু করে দিয়েছে সফরকারীরা।
আজ চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেট হারিয়েছে অজিরা। আগে ব্যাট করে ১৩১ রানের বেশি নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জবাবে ১০ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় মিচেল মার্শের দল।
ম্যাচে বাংলাদেশকে অল্পে থামানোর কারিগর অস্ট্রেলিয়ার চার স্পিনার- অ্যাডাম জ্যাম্পা, ম্যাট রেনশ, জোয়েল ডেভিস ও নিখিল চৌধুরী। তারা চারজন মিলে নিয়েছেন ৯ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এটি।
এর আগে স্পিনে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ছিল ৭ উইকেট, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২০ সালে ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২১ সালে।
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের পায়ের পেশির চোটে এদিন দলকে নেতৃত্ব দেন সহ-অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। টস জিতে তিনি ব্যাটিং নিলে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর খেই হারিয়ে পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি তারা।
পাঁচ ওভারের মধ্যে তানজিদ হাসান (১০) ও সাইফ হাসান (২০) ফিরে গেলেও পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৫১ রান করে ফেলে বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারের শেষ বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয় (৮)। সেখান থেকেই শুরু বাংলাদেশের পতন।
একের পর ব্যাটারের বিদায়ে ৯৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। প্রায় দেড় বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ১৮ বলে ১৭ রান করেন সৌম্য সরকার। অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।
পরে শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে লড়াই করে দলকে বলার মতো স্কোরে নিয়ে যান শেখ মেহেদি হাসান। ৪টি চার মেরে শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন অফ স্পিনিং এই অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন লেগ স্পিনার জ্যাম্পা ও অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার ডেভিস। এর বাইরে রেনশ ২ ও আরেক অভিষিক্ত লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার নিখিল নেন ১টি উইকেট। চারজন মিলে ১২ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে নেন ৯ উইকেট।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে জশ ইংলিসের (৫) উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শরিফুলের বলে রিভার্স স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন উইকেটকিপার-ব্যাটার (১৩)। পঞ্চম ওভারে মুস্তাফিজের বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন দলের অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
এরপর ঝড় তোলেন তিন নম্বরে নামা কুপার কনোলি। তবে তাকে ফিফটি করতে দেননি অভিষিক্ত সাকলাইন। বড় শটের খোঁজে ড্রেসিং রুমের পথ ধরা বাঁহাতি ব্যাটার ৪ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস।
চার নম্বরে নেমে দুটি বিশাল ছক্কা মারলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি টিম ডেভিড। ১৬ বলে ২০ রান করে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান তিনি। রিশাদ হোসেনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে অভিষিক্ত নিখিল আউট হন ১৩ বলে ১৮ রান করে।
জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে সাকলাইনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন রেনশ। ১৮ রান করতে ২৮ বল খেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার তখন আর ৪ উইকেট থাকায় সম্ভাবনা জেগেছিল তৃতীয় ওয়ানডের মতো নাটকীয়তার। তবে তেমন কিছু হতে দেননি জাভিয়ের বার্টলেট। ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। একই মাঠে শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে দুই দল।
বিডি প্রতিদিন/এআরএ