বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের রূপান্তর ও তরুণ প্রজন্মের বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট। ১৯৫১ সাল থেকে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর, এবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করল আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল ১৬ জুন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেমব্রিজের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন বিভাগের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড সারোওয়াত রেজা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারাও এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
নতুন এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ফলে কেমব্রিজ এখন থেকে বাংলাদেশের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সরাসরি ও আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্বমানের সহায়তা, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষতাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে আধুনিক পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক ও প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য। এই রূপান্তরের সময়ে কেমব্রিজের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারকে আরও গতিশীল করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ১২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কেমব্রিজের শিক্ষাকাঠামোর সুফল পাচ্ছে। বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার বিশাল বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে এবার বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদার আলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি