শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার ১৩ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মো. তাইমুর সাইফ নামে এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জুয়েল রানার আদালত আসামিদের রিমান্ডের আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে আদালতকে জানান, আসামিরা ঘটনার দিন বিশ্বকাপ খেলা দেখছিলেন, রাজনীতিতে বা কোনো সংগঠনে তাদের কোনো পদপদবি নেই।
তাদের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
?রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোতাহের হোসেন শুভ (৩০), মারুফুল ইসলাম (২৪), তানভীর আহম্মেদ সানী (২৪), ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর (১৮), সামির চৌধুরী লিমন (১৮), ইমন আলী খান (১৯), ইয়াছিন আরাফাত আবির (২১), সিফাত রহমান (১৯), ইয়ামিন আরাফাত নিহাদ (২০), নাজমুল সরকার (১৯), আবির হোসেন (২১), তৌকির তারেক আয়াজ (২২) ও হাবিবুর রহমান (৪৭)।
?মামলার অভিযোগে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা ওই স্থানে অবস্থান নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। একই সঙ্গে তারা পরস্পর যোগসাজশে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মাধ্যমে সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত বা পতন ঘটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগানসংবলিত লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসসংক্রান্ত লেখা ও নেতা-কর্মীদের ছবিসংবলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
জানা যায়, গত ১৬ মে ভোর ৪টা ১০ মিনিটে আসামিরা বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (আউটগোয়িং) নেভি হেডকোয়ার্টার্সের বিপরীত পাশে পাকা রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে জড়ো হন। ওই সময় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অপর আসামিদের ১৩ জুন গ্রেপ্তার করা হয়।