কোরিয়াগামী কর্মীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূল হোতা আহসান হাবিবকে (৪০) আটক করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজশাহীর শাহমখদুম থানার আমচত্বর মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়। সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী প্রেরণের একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং রাজশাহী জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক আহসান হাবীব রাজশাহীর পবা থানার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরা পলাতক। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজশাহী গোদাগাড়ী থানার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেরাজ আলী (২১) সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে আবেদন করেন এবং ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল সম্পন্ন করে সফলভাবে রোস্টারভুক্ত হন। এ তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করেন প্রতারক চক্রের মূল হোতা আহসান হাবীব ও তার সহযোগীরা।
গত রবিবার আহসান হাবীব ভুক্তভোগী মেরাজের বাড়িতে গিয়ে কোরিয়ান একটি কোম্পানির ভুয়া কাগজ দেখিয়ে দাবি করেন যে ১৬ লাখ টাকা না দিলে তার ভিসা বাতিল করে দেওয়া হবে। ভিসা প্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে তারা অগ্রিম ১ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে মেরাজ আলীর সন্দেহ হলে তিনি সোমবার ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে গতকাল বোয়েসেল ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে চক্রের মূল হোতাকে আটক করা হয়।
বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়মে বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার বা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন থাকার এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে বোয়েসেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।