৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) জন্য নির্মাণ করা আধুনিক সুযোগসুবিধা সংবলিত স্থাপনা অব্যবহৃত পড়ে আছে চার বছর। সেখানে এখনো চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম। এতে সরকারের বিপুল অর্থে নির্মিত স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্যারামেডিকেল শিক্ষার সুযোগ থেকে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৩৩ কোটি ১৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের ১৭ জুন ঝালকাঠিতে ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ প্রকল্প’ নামে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুযোগসুবিধা সংবলিত একাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন তলা একাডেমিক ভবন, চার তলা পুরুষ হোস্টেল (১১৪ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা), তিন তলা মহিলা হোস্টেল (৭৬ ছাত্রীর আবাসন সুবিধা), প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার, অফিসার ও স্টাফ কোয়ার্টার, ড্রাইভার কোয়ার্টার ও গাড়ির গ্যারেজ, ৩১৫ কেভিএ সাবস্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর, গার্ডরুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক লাইন, নলকূপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ২০২২ সালের ২৩ জুন ভবনটি ঝালকাঠি সিভিল সার্জনকে হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এখনো চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম। সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম আংশিকভাবে এ ক্যাম্পাসে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ডিজি বরাবর কয়েক দফা চিঠি দিলেও চালু করা যায়নি ম্যাটসের কার্যক্রম। পাঁচ মাস আগে ঝালকাঠি ম্যাটস ভবন পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। ম্যাটসদের কর্মক্ষেত্র বাংলাদেশে কম থাকায় এটি আর চালু হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দেন ডিজি। তিনি বলেন, এখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্য কোনো একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের অন্য ম্যাটস কার্যক্রম কমিয়ে আনা হবে। বেসরকারি যতগুলো ম্যাটস রয়েছে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেন তিনি। তবে এত সব অবকাঠামো নির্মাণের পরও প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ম্যাটসে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশের আরও কয়েকটি স্থানেও নির্মিত ম্যাটস ভবন চালু হচ্ছে না।’ ঝালকাঠির সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ম্যাটস চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এখন বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের কোনো এক বা দুই বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।’