ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক প্রাইভেট হাসপাতালে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পেটের নাড়ি ও শিরা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া ওই নারীর নাম সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন (২৫)। ওই নারীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে তার দরিদ্র পরিবার। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বল একখণ্ড জমিও। গতকাল ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রোগীর বাবা মো. মাজেদ হোসেন। এ সময় তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। অভিযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে শৈলকুপার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ হোসেন বলেন, ১৮ মে তার মেয়ে মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন আলটাাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে বলেন, রোগীর পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে, দ্রুত অপারেশন না করলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হবে। এরপর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে, তিনি রোগীকে কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে ‘শৈলকুপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। ওই রাতেই ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডা. নাসির উদ্দিন মিতার পিত্তথলি অপারেশন করেন। তবে অপারেশনে তারা পিত্তথলির আশপাশের বেশ কিছু নাড়ি ও রক্তনালী (শিরা) কেটে ফেলেন। এতে রোগীর পেট থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখেও ডা. মামুন রোগীকে পাঁচ দিন ধরে ওই প্রাইভেট হাসপাতালেই আটকে রেখে চিকিৎসা দিতে থাকেন।
পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে ২৩ মে রোগীকে রাজধানীর ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে’ নেওয়া হয়। মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দরিদ্র বাবার প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যার জন্য তাকে নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করতে হয়েছে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন রোগীর স্বাস্থ্যহানীর কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি অপারেশন করেননি। তিনি অবেদনবিদ হিসেবে ওটিতে ছিলেন। অপারেশন করেছেন রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকার চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিন। কী ঘটনা ঘটেছে তা ডা. নাসির উদ্দিন বলতে পারবেন।