চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে আসামি করার বিষয়ে জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করেই তাদের আসামি করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর এই মামলার ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, ‘মামলার দালিলিক প্রমাণের উদ্দেশ্যে আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আদেশ-নির্দেশ, উসকানিমূলক বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি-লেখনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট সংগ্রহসহ পর্যালোচনা করেছি। একই সঙ্গে গণ অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধাসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। পত্রপত্রিকার কাটিংসহ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও আলামত জব্দ করে এসব আলামতের বিশেষজ্ঞ মতামতও নেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘হামলার ঘটনাস্থল যাত্রাবাড়ী, কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকাসহ আশপাশের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছি। এরপর সবকিছুর বিশেষজ্ঞ যাচাইবাছাই সম্পন্ন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।’ এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন দুজন। তারা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২৯ মার্চ।