বর্ষার নবধারায় স্নাত চলনবিল যখন রূপালী চাদর গায়ে জড়িয়ে শান্ত-স্নিগ্ধ, ঠিক তখনই তার রূপের মাধুর্যকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিলের বুক চিরে জেগে ওঠা নৈসর্গিক পর্যটন এলাকাকে লাল-সবুজের মায়াবী ক্যানভাসে রূপান্তর করতে কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটির গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সদস্যরা।
ধু-ধু জলরাশি আর মৃদু বাতাসের মিতালিতে মুখর চলনবিল এমনিতেই পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। আগামী দিনে সেই দোলায় বৈশাখী বাউলের মতো রঙ ছড়াবে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা এই স্বপ্ন বুনেই শুভসংঘের তরুণরা কোদাল-খুন্তি হাতে নেমে পড়েন তাদের প্রতিটি হাতের ছোঁয়ায় রোপিত হয়েছে একেকটি নতুন প্রাণের স্পন্দন, যা আগামী দিনে পর্যটকদের ছায়া দেবে, চোখ জুড়াবে আর মনকে করবে উচাটন।
আজ মঙ্গলবার চলনবিল পর্যটন এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে এই সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. গোলাম রব্বানী, সহ সভাপতি মো. মকবুল হোসেন, মো. শুভাশিস কবির, মো. নাসিম উদ্দিন জয়, সাধারণ সম্পাদক মো. অনিক সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়ার লামিম, উৎসব প্রামাণিক, সাহারিয়ার লামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জোহা প্রামাণিক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল ইসলাম, ইমন ইসলাম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. লিমন প্রামাণিক, সহ প্রচার সম্পাদক মো. সোহানুর রহমান, সদস্য মিলন মোল্লা, সাকিল ইসলাম, মেহেদি হাসান, ইয়ামিন তালুকদার, শ্যামল হোসেন, সোহাগ মোল্লা, আজিজুল সরকার, নাহিদ জামান, সিব্বির আহসান।
সংগঠনের সহ সভাপতি মো. গোলাম রব্বানী জানান, ‘তারা শুধু গাছ রোপণ করছেন না, চলনবিলের বুকে এক টুকরো লাল-সবুজের অহংকার বুনে দিচ্ছেন; কয়েক বছর পর যখন এই কৃষ্ণচূড়াগুলো একযোগে হেসে উঠবে, তখন চলনবিলের রূপ দেখে চোখ ফেরানো দায় হবে।’
উপস্থিত শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা জানায়, ‘শুধু কংক্রিটের উন্নয়ন নয়, প্রকৃতির নিজস্ব রূপকে বাঁচিয়ে রাখাই আসল সার্থকতা। এই কর্মসূচি চলনবিলকে যেমন আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, তেমনি জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায়ও রাখবে এক অনন্য ভূমিকা। বৃক্ষরোপণ শেষে তরুণেরা শপথ নেন, শুধু রোপণই নয়, এই চারাগুলো যতক্ষণ না মহীরুহ হয়ে উঠছে, ততক্ষণ পরম মমতায় এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করবেন তারা।’
বিডি-প্রতিদিন/টিএ