মাদক ও এইডস প্রতিরোধে কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার কুমিল্লা কমার্স কলেজের নতুন ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে বসুন্ধরা শুভসংঘ কুমিল্লা শাখার উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) কুমিল্লা শাখার সভাপতি ও কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির মাসউদ।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি জাহিদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শুভসংঘের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুমিল্লা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা, নিউজ২৪ টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি এইচ এম মহিউদ্দিন ও আলোকিত সকালের কুমিল্লা প্রতিনিধি মোতালেব হোসেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ নানা প্রলোভন, হতাশা ও অসচেতনতার কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে না, ধ্বংস হচ্ছে পরিবার, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও কর্মজীবন, বাড়ছে সামাজিক অপরাধ।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারা বলেন, জীবনে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং নেতিবাচক সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।
সেমিনারে এইডস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, এইডস একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও সচেতনতা, সঠিক তথ্য ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, অনেক সময় ভুল তথ্য ও সামাজিক কুসংস্কারের কারণে এইডস নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তাই তরুণদের মধ্যে সঠিক স্বাস্থ্যজ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। মাদক ও অসচেতন জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা বলেন, পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে তারা মাদকসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।
তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ