ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ওপর পশ্চিমা অর্থনৈতিক অবরোধ এড়াতে দেশটির সরকারকে সহায়তার অভিযোগে তেহরানের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘নোবিটেক্স’-এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
গত মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—এই ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জটি ব্যবহার করে ইরান সরকার এবং কালো তালিকাভুক্ত একাধিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন পরিচালনা করে আসছিল।
গত ১ মে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে সপ্রমাণ দেখানো হয়েছিল যে—কীভাবে নোবিটেক্স ইরানের সমান্তরাল একটি অবৈধ আর্থিক ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এবং ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর জন্য শত শত মিলিয়ন ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছিল। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সরকারের জারি করা দেশব্যাপী তীব্র ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা শাটডাউনের মধ্যেও এই প্ল্যাটফর্মটি গোপনে সচল থেকে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন সচল রেখেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “যখন ইরানের সাধারণ অর্থনীতি চরম পতনের মুখে, তখন দেশটির শাসকগোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতিগ্রস্ত এজেন্ডা বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়া এবং দেশ থেকে অর্থ পাচারের জন্য এই ডিজিটাল ক্রিপ্টো প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েছে।”
রয়টার্সের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, এই নোবিটেক্স এক্সচেঞ্জটি মূলত ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ‘খারাজি’ পরিবারের দুই ভাই গোপন পরিচয়ে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, এক্সচেঞ্জটি চালু করার সময় ওই দুই ভাই তাদের পারিবারিক মূল পদবি লুকিয়ে এমন একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন যা সাধারণত তাদের পরিবার ব্যবহার করে না।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নোবিটেক্স এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি এর মূল দুই হর্তাকর্তা—সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলী আঘামির মোহাম্মদ আলী এবং সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আঘামির মোহাম্মদ আলী নামের দুই ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে এক্সচেঞ্জটির বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমির হোসেন রাদ-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও নোবিটেক্স দেশটির শীর্ষ নেতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে এবং তা দেশের বাইরে পাচার করতে সরাসরি ঢাল হিসেবে কাজ করেছে।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় ইরানে গভীর রাত হওয়ায় এই বিষয়ে নোবিটেক্স কর্তৃপক্ষের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত এপ্রিল মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় নোবিটেক্স দাবি করেছিল—ইরান সরকারের সাথে তাদের কোনো সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ নেই এবং তারা রাষ্ট্রকে কোনো অবৈধ সুবিধা দিচ্ছে না। তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যদি কোনো অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েও থাকে, তবে তা কর্তৃপক্ষের অজান্তে এবং তাদের অনুমোদন ছাড়াই হয়েছে। একই সাথে দুই ভাই কখনো নিজেদের আসল নাম বা পরিচয় গোপন করেননি বলেও দাবি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সর্বশেষ আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রিপ্টো নেটওয়ার্কটি আন্তর্জাতিকভাবে চরম আর্থিক অবরুদ্ধতার মুখে পড়ল।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





