অতিরিক্ত গ্রাহক চাপ সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগ; এক দিনের প্যাকেজ ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

বিশ্বকাপ পাস কিনেও খেলা মিস, প্রশ্নের মুখে গ্রামীণফোন

বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ প্যাকেজ বিক্রি করলেও অতিরিক্ত গ্রাহক চাপ সামলাতে না পারায় বায়োস্কোপ ও মাইজিপিতে বড় ধরনের স্ট্রিমিং সমস্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এক দিনের প্যাকেজ ব্যবহারকারীরা, যারা টাকা দিয়েও খেলা দেখতে পারেননি।

বিশ্বকাপ পাস কিনেও খেলা মিস, প্রশ্নের মুখে গ্রামীণফোন
১৪ জুন, ২০২৬ ০০:০০  

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশের ওটিটি (ওভার-দ্য-টপ) প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ১২ জুন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে গিয়ে দেশজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্ত চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) আসতে দীর্ঘ বিলম্ব, পেমেন্ট জটিলতা, ক্রমাগত বাফারিং এবং লাইভ ফিড বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ত্রুটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রাহকরা। প্রথম দিনে গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ (Bioscope+) ও মাইজিপি (MyGP) অ্যাপসহ বাংলালিংকের টফি (Toffee), আইস্ক্রিন (iscreen) এবং বিঞ্জ (Binge)-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো এই চাপের মুখে ভেঙে পড়ে। তবে দ্বিতীয় দিন থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।

এবারের বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের প্ল্যাটফর্ম 'বায়োস্কোপ'। বিশ্বকাপ উপলক্ষে তারা তিনটি বিশেষ 'ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ পাস' চালু করে—২৮ টাকায় ২৪ ঘণ্টা, ১২৭ টাকায় ৭ দিন এবং ১৯৯ টাকায় ৪৫ দিনের মেয়াদ। কিন্তু উদ্বোধনী দিনেই হাজার হাজার গ্রাহক টাকা দিয়েও খেলা দেখতে পারেননি। ওটিপি ও সার্ভারজনিত ত্রুটির কারণে অনেকেই অ্যাপে প্রবেশই করতে পারেননি, আর যারা পেরেছেন তারা দেখতে পান 'Device Reached Limits' নামক বিরক্তিকর বার্তা।

পুরোন ঢাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী গ্রাহক হাশেম আলী জানান, "কাজের ফাঁকে স্মার্টফোনে খেলা দেখার জন্য ১২৭ টাকার ৭ দিন মেয়াদি পাস নিয়েছিলাম। কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই 'ডিভাইস রিচড লিমিটস' মেসেজ আসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ২-৩ মিনিটের জন্য দেখা গেলেও পুরো সময় জুড়েই একই সমস্যা ছিল। দ্বিতীয় দিনেও কানাডা-বسنিয়া ম্যাচ শুরুর ২-৩ মিনিটের মধ্যে একই নোটিফিকেশন আসে।" অনুরূপ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বনশ্রীর বাসিন্দা আব্দুর রহমান। তিনি ২৮ টাকার প্যাকেজ কিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সামান্য অংশ দেখার পর আর সংযোগ পাননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "টাকা কাটা গেছে, কিন্তু খেলা দেখা যায়নি।"

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণফোনের ৮ কোটি ৪৯ লাখ গ্রাহকের মধ্যে যদি মাত্র ১ লাখ গ্রাহকও এই প্যাকেজ কিনে থাকেন, তবে এক দিনেই অপারেটরটির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, যার বিপরীতে গ্রাহকরা প্রথম দিনে পেয়েছেন কেবলই শূন্যতা।

সমস্যা থেকে রেহাই পায়নি বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম 'টফি'-ও, যাদের কাছে বিশ্বকাপের মূল সম্প্রচার স্বত্ব রয়েছে। সাবস্ক্রিপশন অ্যাক্টিভেট করতে না পেরে এবং বারবার লাইভ স্ট্রিমিং ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকরা টফির ফেসবুক পেজে ক্ষোভ জানান। আনামুল হক নামের এক সাবস্ক্রাইবার লেখেন, "মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ২০ মিনিটও দেখতে পারিনি। আমার ৯৯ টাকা রিফান্ড করলে খুশি হতাম।"

 কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে ”একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু গ্রাহক বায়োস্কোপ প্ল্যাটফর্মে ফিফা বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সময় বিঘ্নের সম্মুখীন হয়েছেন” বলে শিকার করেছেন গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন টিম বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে সেবা স্বাভাবিক করতে কাজ করেছে। 

অন্যদিকে, বাংলালিংকের কর্পোরেট কমিউনিকেশনস প্রধান গাজী তৌহিদ আহমেদ জানান, লাইভ ফিড সাময়িক বিঘ্নিত হওয়ার পর হঠাৎ ওটিপি রিকোয়েস্টের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সিস্টেমে জট তৈরি হয়েছিল। এই সমস্যটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই ঠিক করা হয়েছে। তারপর ৩০ দিনের প্যাকেজ থাকায় অপারেটরটি অচিরেই বিড়ম্বনার শিকার গ্রাহকদের জন্য সারপ্রাইজ গিফট ঘোষণা করবে। রবিও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানাগেছে।

প্রসঙ্গত, প্রথম দিনের এই ধাক্কার পর আইস্ক্রিন ও বিঞ্জ সহ সব প্ল্যাটফর্মই তাদের কারিগরি পরিকাঠামো জোরদার করে এবং দ্বিতীয় দিন থেকে স্ট্রিমিং স্বাভাবিক হয়েছে।

//ডিবিটেক/এমইউআইএম/ইকে//