ডলবি সিনেমা বনাম আইম্যাক্স: কোন পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেমন?
প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার আনন্দই আলাদা। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন শুধু টিকিট কেটেই দায়িত্ব শেষ হয় না, দর্শকদের বেছে নিতে হয় কোন সংস্করণে বা ফরম্যাটে তাঁরা সিনেমাটি দেখবেন। বড় পর্দায় সেরা অভিজ্ঞতার জন্য বিশ্বজুড়ে এখন দুটি প্রযুক্তি সবচেয়ে জনপ্রিয়—আইম্যাক্স (IMAX) এবং ডলবি সিনেমা (Dolby Cinema)। আপাতদৃষ্টিতে দুটিকে একই মনে হলেও, এদের কাজের ধরন ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সহজ কথায়, আইম্যাক্স প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিশালতার বা স্কেলের ওপর, যেখানে ডলবি সিনেমার মূল নজর থাকে সূক্ষ্মতা বা প্রিসিশনের ওপর। আপনি যদি সিনেমার ভেতরে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে চান, তবে আইম্যাক্স আপনার জন্য সেরা। আর যদি নিখুঁত ছবি এবং চারপাশ থেকে ভেসে আসা জীবন্ত শব্দ উপভোগ করতে চান, তবে ডলবি সিনেমাই উপযুক্ত।
বিশালতার অন্য নাম আইম্যাক্স
আইম্যাক্স থিয়েটারের মূল আকর্ষণ হলো এর মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ও বাঁকানো পর্দা। এই সংস্করণের সিনেমাগুলো সাধারণ ক্যামেরায় ধারণ করা হয় না। ক্রিস্টোফার নোলানের মতো বিখ্যাত পরিচালকেরা আইম্যাক্সের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৬৫ মিলিমিটারের ফিল্ম ক্যামেরা ব্যবহার করেন।
আইম্যাক্স থিয়েটারে শক্তিশালী লেজার প্রজেক্টর ব্যবহার করা হয় এবং এর বসার আসন বিন্যাস এমনভাবে করা হয় যাতে পর্দার বিশালতা দর্শককে চারপাশ থেকে গ্রাস করে। বিশ্বজুড়ে মাত্র ১ হাজার ৮০০টির মতো আসল আইম্যাক্স পর্দা রয়েছে।
শব্দ ও রঙের নিখুঁত কারিগরি ডলবি সিনেমা
ডলবি ল্যাবরেটরিজ মূলত শব্দের প্রযুক্তির জন্য বিশ্বখ্যাত। ডলবি সিনেমা থিয়েটারগুলো তৈরি হয় দুটি মূল প্রযুক্তির সমন্বয়ে—'ডলবি অ্যাটমোস' এবং 'ডলবি ভিশন'।
ডলবি অ্যাটমোস হলো একটি ত্রিমাত্রিক (3D) শব্দব্যবস্থা। এই থিয়েটারগুলোর সামনে, পেছনে, পাশে এমনকি ছাদের ওপরসহ প্রায় ৬৪টি স্পিকার থাকে। এর ফলে পর্দায় কোনো তীর বা বুলেট ছুটে গেলে মনে হবে সেটি আপনার কানের পাশ দিয়েই চলে গেল। আর ডলবি ভিশন হলো প্রজেক্টরের উন্নত রঙ ও বৈপরীত্য বা কনট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি। সাধারণ পর্দায় যেখানে কালো রঙকে কিছুটা ধূসর দেখায়, ডলবি ভিশনের লেজার প্রজেক্টরে তা একদম নিখুঁত কুচকুচে কালো ও উজ্জ্বল দেখায়।
জেমস ক্যামেরনের মতো অনেক পরিচালক আবার ডলবি সিনেমাকে তাঁদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখেন। তাই অ্যাকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে বিশাল পর্দার জন্য আইম্যাক্স এবং মারমার কাটকাট শব্দ ও নিখুঁত রঙের জন্য ডলবি সিনেমা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ডিবিটেক/বিএমটি





