জাপান সিভিল এভিয়েশনের আপত্তিতে পিছাল নারিতা ফ্লাইট, চালু হচ্ছে ২৭ জুলাই: বিমান মন্ত্রী
জাপান সিভিল এভিয়েশনের সেফটি অডিটের জন্য ৪৫ দিন সময় লাগার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা-ঢাকা ফ্লাইট ৩০ জুনের পরিবর্তে আগামী ২৭ জুলাই পুনরায় চালু হবে। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিমান মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই তথ্য জানান। আগামী ২০ জুন থেকে বিমানের ওয়েবসাইট ও অন্যান্য মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, পূর্বে রুটটি লাভজনক থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক কারণে বন্ধ করা হয়েছিল, এবার প্রবাসীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সপ্তাহে ৩টি পর্যন্ত
টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের পর দেশের এভিয়েশন খাতেও এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। আগামী ৩০ জুন নয়, বরং আগামী ২৭ জুলাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। ১৫ জুন, সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই নতুন তারিখের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ৩০ জুনের মধ্যে পুনরায় ফ্লাইট চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
ফ্লাইট পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বিমান মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "আমরা ৩০ জুনের মধ্যে এই রুটে বিমান চালানোর জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কাজ করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কিছু আইনি ফরমালিটিজ থাকে। জাপান সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব কিছু দায়িত্ববোধ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিট) করার জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন। সেই নিয়মের ভিত্তিতে তারা আমাদের কাছে ৪৫ দিন সময় চেয়েছে। জাপান সিভিল এভিয়েশনের এই ফরমালিটিজের কারণেই ৩০ জুনের পরিবর্তে আমরা আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই ফ্লাইট শুরু করার চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।"
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "এর আগে প্রেস কনফারেন্সে আমরা ৩০ জুনের মধ্যে নারিতা ফ্লাইট চালু করার কথা বলেছিলাম, যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর নিরাপত্তাজনিত কারণে সেফটি অডিট চালাতে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হওয়ায় ৩০ জুনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই বিলম্ব আমাদের কোনো গাফিলতির কারণে হচ্ছে না, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম। তাদের নিয়মতান্ত্রিক ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণেই আগামী ২৭ জুলাই ফ্লাইটটি চালু করতে হচ্ছে।"
টিকিট বিক্রির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী একটি বড় সুখবর দিয়ে জানান, আগামী ২০ জুন থেকেই ঢাকা-নারিতা রুটের টিকিট বুকিং ও বিক্রি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ২০ জুন থেকে বিমানের নিজস্ব ওয়েবসাইটসহ সব ধরনের আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে এই টিকিট পাওয়া যাবে।
রুটের লাভ-ক্ষতি ও যাত্রী চাহিদার বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশের ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং কর্মী রয়েছেন, যার সংখ্যা দিন দিন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যখন পুনরায় ফ্লাইটের ঘোষণা দেই, তখন জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতও সরাসরি ফ্লাইটে যাতায়াত করতে পারবেন বলে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন।"
পূর্বে এই রুটটি লোকসানি ছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই রুটটি কিন্তু কোনো বাণিজ্যিক লোকসানের কারণে নয়, বরং বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে আমরা কিছুটা লস করলেও পরে রুটটি ব্রেক ইভেনে (আয়-ব্যয় সমান) আসে এবং বন্ধ করার আগের ৩-৪ মাস এটি নিয়মিত লাভ করছিল; তখনই ফ্লাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবার আমরা সর্বদা কীভাবে লাভ ধরে রাখা যায়, সেই নিখুঁত হিসাব-নিকাশ করেই মাঠে নামছি।" তিনি আরও জানান, ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে আপাতত সপ্তাহে একটি ফ্লাইট দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে যাত্রী বাড়ার সাপেক্ষে প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩টি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
//ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে//





