বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ি খাতে বড় প্রণোদনা, চার্জিং স্টেশনে কর শূন্যের প্রস্তাব
নতুন বাজেটে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের বিকাশে বড় ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন, ই-বাইক, ইলেকট্রিক বাস-ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশন অবকাঠামোতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের পাশাপাশি চার্জার আমদানিতে করভার শূন্যে নামানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে একাধিক কর-সুবিধা ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন ও চার্জার আমদানিতে বিদ্যমান মোট ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ করভার একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব।
১১ জুন, বৃহস্পতিবারজাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে চার চাকা ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের বডি নির্মাণ, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও অ্যাসেম্বলিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রদান করবে। এর বাইরে সব ধরনের শুল্ক-কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান পার্টস সংযোজন ও পেইন্টিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমিত পর্যায়ে মূল্য সংযোজন করবে, তাদের জন্য ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া অন্য সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পকে উৎসাহিত করতে কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট ছাড়া অন্য সব ধরনের শুল্ক-কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশীয় ই-বাইক শিল্পের বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বা স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা পাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে।
অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে দেশব্যাপী চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে চার্জিং স্টেশন ও ইভি চার্জার আমদানিতে বিদ্যমান ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ করভার সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত কর-সুবিধা বাস্তবায়িত হলে দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠার পথও সুগম হবে।
//ডিবিটেক/এসএইচ/এমআইইউ//





