নেটওয়ার্ক না পেয়ে আমগাছে উঠে অনলাইন হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক!

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পাহাড়ি এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমগাছের ডালে বসে হাজিরা পাঠালেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির এক প্রধান শিক্ষক। মোবাইল নেটওয়ার্ক না পেয়ে আমগাছে উঠে অনলাইন হাজিরা দিয়েছেন তিনি। সরকারি অনলাইন উপস্থিতি কার্যক্রমের প্রথম দিনেই পাহাড়ি অঞ্চলের নেটওয়ার্ক সংকট সামনে এসেছে।

নেটওয়ার্ক না পেয়ে আমগাছে উঠে অনলাইন হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক!
১৬ জুন, ২০২৬ ১১:২৮  

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালুর প্রথম দিনেই নেটওয়ার্ক সংকটে পড়েছেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষক। মোবাইল নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কয়েকশ ফুট উঁচু পাহাড়ে উঠে আমগাছের ডালে বসে অনলাইনে হাজিরা দিতে হয়েছে তাকে।

ইতিমধ্যেই এই ছবি ও খবর নিয়ে দেশের নেটদুনিয়ায় চলছে মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে তীর্যক সমালোচনা। 

কেননা, নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পড়ে গাছের ওপর উঠে মোবাইল চালানোর কারণ উল্লেখ করে রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তার বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচু এলাকায় অবস্থিত। ফলে বিদ্যালয় চত্বরে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ছাদে উঠেও কোনো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা করেও সংযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক পান। এরপর সেখান থেকেই হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে সক্ষম হন।

আবু তাহের বলেন, “অনেক কষ্টে গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়েছি। ছবি পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় ধমকও শুনতে হয়েছে।”

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে হাজিরা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে পরিবারের ভরণপোষণ কীভাবে চলবে?”

আমগাছে উঠে নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই দুর্গম ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় অনলাইন হাজিরা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয় থেকে অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেখান থেকে অনলাইনে হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার শিক্ষকরা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন। আগামী দিনে হাজিরার হার আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

//ডিবিটেক/সিএনআই/ইকে//