রোবটের জন্য নতুন এআই মডেল আনল আলিবাবা
চ্যাটবটের গণ্ডি পেরিয়ে এবার রোবটকে আরও বুদ্ধিমান ও কর্মক্ষম করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নতুন মডেল উন্মোচন করেছে চীনের প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা। এর মাধ্যমে মানুষের মতো সাধারণ কথোপকথনের পাশাপাশি রোবট এখন বাস্তব পৃথিবীর জটিল সব কাজ নিজে থেকেই সম্পাদন করতে পারবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আলিবাবার পক্ষ থেকে রোবটের জন্য তৈরি এই বিশেষ এআই মডেলের সেট বা প্যাকেজটি জনসমক্ষে আনা হয়। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রযুক্তি শিল্পে এখন সাধারণ চ্যাটবট বা বার্তা আদান-প্রদানকারী সফটওয়্যার তৈরির চেয়ে স্বয়ংক্রিয় ‘এআই এজেন্ট’ তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই এজেন্টগুলো কোনো মেশিনের ক্ষিপ্রতা ও বুদ্ধিমত্তা অনেক বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যবসায়িক দিক থেকেও অত্যন্ত লাভজনক।
আলিবাবার গবেষণা শাখা ‘ড্যামো একাডেমি’ এবং ক্লাউড বিভাগের তৈরি করা এই নতুন প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুইন-রোবট স্যুট’। এর অধীনে মূলত তিনটি মূল মডেল রয়েছে, যা রোবটকে ভিন্ন ভিন্ন কাজে সাহায্য করবে। যেমন, একটি মডেলের কাজ হলো রোবটকে চারপাশের পরিবেশ দেখে কোনো বস্তু চেনা এবং সেটি হাত দিয়ে ধরার নিখুঁত নির্দেশনা দেওয়া। অন্য একটি মডেলের মাধ্যমে রোবট সম্পূর্ণ অপরিচিত জায়গায় পথ চিনে বা নেভিগেশন করে চলতে পারবে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এই এআই মডেলে চালিত একটি রোবট নিজে থেকেই বিভিন্ন ফল চিনে নিয়ে ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখছে। মানুষের কাছে এই কাজটি সহজ মনে হলেও, একটি যন্ত্রের জন্য নিখুঁতভাবে ফল চেনা এবং হাত নাড়াচাড়া করার পেছনে অত্যন্ত জটিল গাণিতিক হিসাব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজ করে।
আলিবাবা জানিয়েছে, এই মডেলগুলো ‘ওপেন সোর্স’ বা উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, যার অর্থ বিশ্বজুড়ে রোবট নিয়ে কাজ করা গবেষক ও প্রকৌশলীরা বিনামূল্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে চীনের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় রোবট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রযুক্তির বাস্তবমুখী পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই নয়, বরং আগামী দিনে মানুষের বিকল্প হিসেবে রোবটকে কলকারখানা ও দৈনন্দিন কায়িক শ্রমে নিযুক্ত করাই এই নতুন প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





