মহাখালীতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ডিএমপির পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্পে ব্যাপক সাড়া
মহাখালী বাস টার্মিনালে গণপরিবহন চালক ও সহকারীদের জন্য বিনামূল্যে 'পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প' আয়োজন করেছে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগ। শনিবার সকালে এর উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগিতায় পরিচালিত এই ক্যাম্পে আগত চালকদের সিংহভাগই কোমর-পায়ে ব্যথা এবং চোখের সমস্যায় ভুগছেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
তীব্র রোদে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করা গণপরিবহনের চালক ও সহকারীদের (হেল্পার) শারীরিক সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রাজধানীর মহাখালীতে এক বিশেষ ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’-এর আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
১৩ জুন, শনিবার মহাখালী বাস টার্মিনালের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের আন্তরিক উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে এই জনকল্যাণমুখী চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। এই বিশেষ ক্যাম্পে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, জরুরি ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক গাইডলাইন বা পরামর্শ প্রদান করছে স্বনামধন্য ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
সকালে মহাখালী টার্মিনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। উদ্বোধনী পর্বে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপি ট্রাফিক গুলশান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস এবং গণপরিবহন খাতকে নিরাপদ করতে চালক ও সহকারীদের নিয়মিত চোখ ও শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নিয়মিত পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি ও রোগীর চাপ নিয়ে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনের পর থেকেই পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে এই ক্যাম্প নিয়ে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ পাওয়া যাচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ৪০ জনেরও বেশি রোগীকে নিখরচায় দেখেছি এবং তাদের শারীরিক লক্ষণ অনুযায়ী বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে পরিবহন শ্রমিকদের তৈরি হওয়া বিভিন্ন পেশাগত শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, “আমাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা চালক ও সহকারীদের মধ্যে অধিকাংশেরই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে কোমর, হাত ও পায়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার (মাস্কুলোস্কেলিটাল পেইন) সমস্যা দেখা গেছে। এছাড়া একটানা ধুলোবালি ও রোদে গাড়ি চালানোর ফলে অনেকের মধ্যেই চোখে কম দেখা কিংবা চোখের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা মহাখালী রুটের সকল চালক ও সহকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে এই বিনামূল্যে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও চক্ষু পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।
//ডিবিটেক//বিএন/ইকে//





