সিসিটিভি ফুটেজে মিথ্যা হলো শাহজালালে হাজিদের লাগেজ চুরির অভিযোগ

সিসিটিভি ফুটেজে মিথ্যা হলো শাহজালালে হাজিদের লাগেজ চুরির অভিযোগ
৩ জুন, ২০২৬ ২১:৩২  

সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার রেকর্ড, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর বিধিমালা এবং সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন জেনারেল অথরিটি (GACA)-এর নির্দেশনা পর্যালোচনা করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ একটি হজ ফ্লাইটের ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

৩ জুন, বুধবার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন বিমানের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহ্‌নূর আহমাদ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হাজিকে নিয়ে বিমানের বিশেষ হজ ফ্লাইট ‘বিজি-৩১০৪’ ঢাকায় অবতরণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করা হয়েছে।

অভিযোগের পর জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে জানা যায়, ফ্লাইটটি রাত ২টা ৫২ মিনিটে অবতরণের পর মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম ব্যাগ যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। রাত ৩টা ৫১ মিনিটের মধ্যে মোট ৮৩৬টি ব্যাগ সরবরাহ সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়া নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ২১টি ব্যাগ আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। তবে ঢাকায় লাগেজ কাটা বা চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে আরও জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা ১৫০ জন নয়, বরং ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী ব্যাগ ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়ার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। এসব ব্যাগে জমজমের পানি, শ্যাম্পু, লোশন ও খেজুর ছিল বলে তারা জানিয়েছেন।

কোনো যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী হারানোর লিখিত অভিযোগ জমা দেননি। একজন যাত্রী মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করলেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

বিমান বাংলাদেশ জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা সঠিকভাবে সিল না করা তরল প্রসাধনী বহন নিষিদ্ধ। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব সামগ্রী শনাক্ত হলে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো জব্দ করতে পারে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে বহন করা নিরুৎসাহিত করা হয়।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার রেকর্ড, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বিধিমালা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে ফ্লাইটটির যাত্রীদের লাগেজ কাটা, চুরি বা অব্যবস্থাপনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে এসএম রাগীব সামাদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে বিমান থেকে নামানোর পর লাগেজ পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপের প্রমাণ মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, কিছু ব্যাগ জেদ্দা থেকেই কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ঢাকায় এসেছে।

/ডিবিটেক/ এসএনএন/ ইকে/