ডিজিটাল রূপান্তর ও সংস্কারের পথে পুঁজিবাজার, নতুন কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত বিএসইসি চেয়ারম্যানের
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, ডিজিটালাইজেশন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিএসইসি। আইপিও সংস্কার, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ও আধুনিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
দেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, গতিশীল এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
৭ জুন, রবিবার বিএসইসি কার্যালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন তিনি। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অভিনন্দন জানাতে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বিএসইসি কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
বৈঠকে মাসুদ খান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণীত আইপিও, মার্জিন ঋণ এবং মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা এবং আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাজারের সব অংশীজনের সহযোগিতায় স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কমিশন কাজ করবে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত ও মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি আইপিও মূল্যায়ন, বাজার তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইজড) নিয়ন্ত্রক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দেন।
ডিএসই পরিচালক সৈয়দা জাকেরিন বখত নাসির বলেন, পুঁজিবাজারের কার্যকর উন্নয়নের জন্য বিএসইসি ও ডিএসইর মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের স্পষ্ট বিভাজনের পাশাপাশি কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। অন্যদিকে পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া আইপিও ও রাইটস ইস্যু প্রক্রিয়ায় অধিকতর জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আরেক পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও শেয়ার ক্যাটাগরি ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন, আধুনিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালু এবং ডিলিস্টিং প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ব্রোকারেজ খাতের অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানান, আন্তর্জাতিক মানের বাজার অবকাঠামো গড়ে তুলতে স্ক্রিপ্ট নেটিং এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, দ্রুত আইপিও অনুমোদন এবং আধুনিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।
//ডিবিটেক/এসআই/এমআই//





