বাংলাদেশ ছাড়ছে না দারাজ
বাংলাদেশে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ, বিক্রেতা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ও পরিচালনা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জুন, বুধবার দারাজ জানিয়েছে, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
দারাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে, সেগুলো তাদের বর্তমান কৌশলগত অগ্রাধিকার বা দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
দারাজ জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের প্ল্যাটফর্মে সাত হাজারের বেশি নতুন বিক্রেতা যুক্ত হয়েছেন। এতে বিক্রেতা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে দারাজ। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এবং প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের যৌথ অনুদানে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি সহায়তা প্রদান করা হয়।
দারাজ বাংলাদেশের এক মুখপাত্র বলেন, “দারাজ বাংলাদেশে তার কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ দারাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা নিয়মিতভাবে আমাদের সাংগঠনিক কাঠামো পর্যালোচনা করি, যাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।”
দারাজ জানায়, বিক্রেতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহক অভিজ্ঞতার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার ও স্মার্টফোনের বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
//ডিবিটেক/এজেডসি/ইকে//





