এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েশন নাইটে শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ছুঁড়ে শিক্ষার্থীদের উল্লাস,

বাংলাদেশ হবে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’

এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েশন নাইটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটরা মন্ত্রীকে শূন্যে ছুঁড়ে উল্লাস প্রকাশ করেন, যার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, নতুন বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। তিনি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে রূপান্তর করতে বৃত্তিমূলক শিক্ষার জোর দিয়ে বাংলাদেশকে একটি ‘ক্রস-বর

বাংলাদেশ হবে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’
১১ জুন, ২০২৬ ২৩:৪৯  

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) সদ্য পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শামিল হলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

১১ জুন, বুধবার রাতে এমআইএসটি-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েশন নাইট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়, যেখানে সদ্য বিদায়ী গ্র্যাজুয়েটরা তাঁদের আনন্দের অংশ হিসেবে প্রিয় শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শূন্যে ছুঁড়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। মন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই মুহূর্তের একটি ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে মন্ত্রীকে অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত অবস্থায় দেখা যায়, যা নিয়ে নেটিজেনদের মাঝেও ইতিবাচক ও প্রশংসামূলক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনার পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের শিক্ষা খাতের যুগান্তকারী উন্নয়নের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “দেশের সামগ্রিক শিক্ষা খাতের জন্য চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই যৌথ মন্ত্রণালয়টি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সেক্টর। আমরা এখানেই থেমে থাকব না, বরং ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহীদদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই অনন্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

শিক্ষা খাতের বৈশ্বিক ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা খাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে। আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি এত বিশাল সম্পদের দেশ, এত সুন্দর দেশ; আমরা কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে থাকব? আমাদের একমাত্র অনগ্রসরতা ছিল শিক্ষা খাতে সঠিক বিনিয়োগের অভাব। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশের এই বিপুল তরুণ সমাজই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি, তাই জনসংখ্যাকে কোনোভাবেই অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশকে উচ্চশিক্ষার একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ (Cross-Border Education Hub) হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চমানের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে তাদের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছে। সেই বৈশ্বিক চাহিদাকে ধারণ করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করার জন্য তিনি দেশের প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে এমআইএসটি-এর ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকবৃন্দ এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েট হওয়া বিপুল সংখ্যক কৃতি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউএম//