বাইনারি বৃষ্টিতে জমেছিলো জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড

বাইনারি বৃষ্টিতে জমেছিলো জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড
১৩ জুন, ২০২৬ ১৬:১৫  
১৩ জুন, ২০২৬ ১৬:৫৯  

বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি।  ভেতরেও তার রেশ ছিলো স্ক্রিনে। তবে তা পানির নয়; বায়নারি (১ আর ০) ডিজিটের। সাথে বিট বক্সের মানব স্ট্রুমেন্টাল শব্দ তরঙ্গ উজ্জীবিত করে তরুণদের। সেই 'বিট-মোসফিয়ার'-এ উপস্থাপিকা মৌসুমি জানালেন, চ্যাটজিপিটি কীভাবে তার অসুস্থতায় নতুন একটি পানিবাহী রোগ পরীক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। 

হলভর্তি শিক্ষার্থিদের অংশগ্রহণে এমন ব্যতিক্রমী পরিবেশনায় ১৩ জুন, শনিবার শেষ হলো রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হলো  “বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬”। 

দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সাইবার প্রতিভা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আয়োজন করে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA)।

 তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত বিজয়ীরা আগামীতে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা অলিম্পিয়াডের মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করবে।

এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানের বিশেষ উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ ও তার আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।

এসময় তারা দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বিকাশের ওপর বিশেষ জোর দেন।

তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যে নতুন সাইবার প্রতিভা ও বিশেষজ্ঞরা গড়ে উঠছে, তারা ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এই অলিম্পিয়াডকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন “স্কুল অব ফিউচার”-সমূহে কর্মরত আইসিটি অফিসারদের মাধ্যমে একটি ব্যাপক অ্যাক্টিভেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছিল। এই কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলা ও সচেতনতা সভা আয়োজনের পাশাপাশি দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পোস্টার, ব্যানার এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। ফলশ্রুতিতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেকর্ডসংখ্যক মোট ৪,৯১১ জন শিক্ষার্থী অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করে।

নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ১৬ মে দেশের ১৭টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভেন্যুতে একযোগে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ভেন্যু থেকে মেধার ভিত্তিতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী মোট ৫১ জন সেরা প্রতিযোগীকে জাতীয় পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হয়। পরবর্তীতে, এই নির্বাচিত ৫১ জন শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে গত ০৯ জুন থেকে ১২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপী একটি নিবিড় আবাসিক মেন্টরিং বুটক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

এই আবাসিক বুটক্যাম্পে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিডিজি ই-গভ সার্ট (BGD e-GOV CIRT)-এর সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা মেন্টর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। মেন্টরিং ক্যাম্পে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (IIT)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BUET) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. আলিম আল ইসলাম।

চার দিনব্যাপী বুটক্যাম্পের শেষ দিনে অর্থাৎ ১২ জুন অত্যন্ত কঠোর ও আন্তর্জাতিক নিয়মে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখান থেকে আজকের সমাপনী অনুষ্ঠানে সেরা সাইবার প্রতিভাদের পুরস্কৃত ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য চূড়ান্ত করা হলো।

//ডিবিটেক/ আইএইচ/ এমাআই//