জাতিসংঘের এসটিআই ফোরামে প্রিয়শপের ডিস্ট্রিবিউশন মডেল
জাতিসংঘের 'এসটিআই ফোরাম ২০২৬'-এ অংশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে রিটেইল-টেক প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ। দেশের ২ লাখেরও বেশি মুদি দোকানিকে প্রযুক্তি ও সহজ ঋণের আওতায় এনে এবং ৫,৪৯০ মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘের ৫টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে অবদান রাখছে, যা এখন বিশ্ববাজারের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত 'বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (STI) ফোরাম ২০২৬'-এ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে গর্বের সাথে তুলে ধরেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিটুবি রিটেইল-টেক প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক ফোরামে প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিকুল আলম খান বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাইক্রোসফটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনে বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ের সাপ্লাই চেইন সংকট দূর করার তাগিদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ভোক্তা বাজার বাংলাদেশে ৫০ লাখের বেশি ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা বা মুদি দোকানি প্রতিদিন দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। তবে সীমিত পুঁজি, অগোছালো সাপ্লাই চেইন, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাব এবং বিশৃঙ্খল ব্যবসায়িক কাঠামোর কারণে তারা প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন। এই সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে প্রিয়শপ একটি আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে সরাসরি সাধারণ মুদি দোকানিদের সাথে যুক্ত করছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ২,০০,০০০-এর বেশি মুদি দোকানিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনেছে প্রিয়শপ। সহজ ঋণ সুবিধা, সরাসরি ব্র্যান্ড থেকে পণ্য কেনা, লজিস্টিকস অবকাঠামো, রিটেইল ইন্টেলিজেন্স ও ডিজিটাল কমার্স টুলস সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর ১, ৮, ৯, ১২ ও ১৩ নম্বর সূচক অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার ও কার্যকর লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রিয়শপ এ পর্যন্ত প্রায় ৫,৪৯০ মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব ফেলছে।
জাতিসংঘে এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন নিয়ে প্রিয়শপের সিইও আশিকুল আলম খান বলেন, যে সমস্যার সমাধান তারা বাংলাদেশ থেকে শুরু করেছিলেন, তা আজ বিশ্বের যেকোনো উদীয়মান বাজারের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে। পণ্য সরবরাহ, পুঁজি বা আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই প্রিয়শপ কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের এই মঞ্চে প্রিয়শপের অংশগ্রহণ বিশ্ব উদ্ভাবনের মানচিত্রে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে।
//ডিবিটেক/এডিআর/ইকে//





