সরকারি ক্রয় ও সেবামূলক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যুক্ত করার উদ্যোগ
সরকারি খাতে দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারে বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু
বাংলাদেশ সরকার ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ এআই (AI) প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মকর্তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, শাসন কাঠামো এবং ই-জিপি (e-GP) সহ সরকারি সেবা খাতে এআই-এর নিরাপদ প্রয়োগ সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইউনেস্কো (UNESCO) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ১৫ জুন, সোমবার ঢাকার লেকশোর হোটেলে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।
আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত চলমান এই আয়োজনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি ক্রয় পেশাজীবী এবং আইসিটি ফোকাল পয়েন্টের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রশাসন ও সেবা প্রদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোর 'রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডোলজি' (RAM) প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে যে, নিরাপদ ও কার্যকর এআই ব্যবহারের জন্য নীতিনির্ধারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান খালিদ বিন মাসুদ বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি বর্তমানেই সরকারি সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। তাই কর্মকর্তাদের এআই লিটারেসি বা জ্ঞান থাকা জরুরি।"
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস.এম. মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে অনেক প্রক্রিয়া ডিজিটাল করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো এআই-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (e-GP) সিস্টেমকে আরও উন্নত করা এবং নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করা।"
ইউনেস্কোর 'এআই এথিক্স এক্সপার্টস উইদাউট বর্ডারস' নেটওয়ার্কের অধীনে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ইউনেস্কো আঞ্চলিক অফিস, ইউএনডিপি শ্রীলঙ্কার সিত্রা সোশ্যাল ইনোভেশন ল্যাব, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা যুক্ত আছেন।
//ডিবিটেক/এমআই/ ইকে//





