সিলিকন ভ্যালি নয়, ‘সিলিকন রিভার’ গড়ার পথে বাংলাদেশ

টেক্সাসে শুরু বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর রোডশো

বাংলাদেশকে ডিপ-টেক ও সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতাসম্পন্ন দেশে পরিণত করতে টেক্সাসে শুরু হয়েছে সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইন ইউএসএ সেমিকন্ডাক্টর রোডশো ২০২৬। অংশ নিয়েছে এএমডি, এনএক্সপি ও টোকিও ইলেকট্রনের শীর্ষ নেতৃত্ব।

টেক্সাসে শুরু বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর রোডশো
৮ জুন, ২০২৬ ০৭:৩৬  

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ডিপ-টেক ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের একটি উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইন ইউএসএ সেমিকন্ডাক্টর রোডশো ২০২৬’, যা দেশের প্রযুক্তি খাতকে উচ্চমূল্যের উদ্ভাবন, চিপ ডিজাইন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক শিল্পে এগিয়ে নেওয়ার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 রোডশোর প্রথম পর্বে ৫ জুন, শুক্রবার বিএসআইএ সভাপতি এম. এ. জব্বার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট AMD, NXP Semiconductors এবং Tokyo Electron–এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ভিশন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি এবং ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগের কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর শুধু স্বল্পমূল্যের শ্রমশক্তিনির্ভর অর্থনীতির পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং এবং গবেষণানির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায়।

রোডশোতে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাইন্যামিক সলিউশন ইনোভেটরস, আইটটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড এবং সিলিকোনোভা লিমিটেড তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গবেষণা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উদ্ভাবনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে কারিগরি সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

৬ জুন ‘ব্রেইনগেইন অস্টিন’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৭৫ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। তাদের সম্মিলিত শিল্প-অভিজ্ঞতা ১,৫০০ বছরেরও বেশি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর রোডম্যাপ, গবেষণা ও উন্নয়ন কৌশল, উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরা হয়।

অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের জন্য একটি সুসংগঠিত, বাস্তবভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর কৌশলকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। আলোচনায় চিপ ডিজাইন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্টার্টআপ এবং বৈশ্বিক প্রতিভা নেটওয়ার্ক গঠনের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, স্মার্ট ডিভাইস এবং ইলেকট্রিক ভেহিকলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য এখনই দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোডশোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল- প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে দেশের প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ব্রেইনগেইন’ উদ্যোগকে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইন ইউএসএ রোডশো শুধু একটি প্রচারণামূলক কর্মসূচি নয়; বরং বাংলাদেশের জন্য উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, এআই-নির্ভর উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে এই রোডশো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প এবং বাংলাদেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হবে।

//ডিবিটেক/ এইচএ/ এমআই//