গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের স্ক্যামের অভিযোগ
১ পয়সা পালসের আড়ালে ‘ডিজিটাল ডাকাতি’?
অফারের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, অটোমেটিক প্যাকেজ চালু হওয়া এবং কাস্টমার কেয়ারের অসংলগ্ন জবাবের কারণে গ্রামীণফোনের (GP) ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এক ভুক্তভোগী রিটেইলার বিটিআরসি ও ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজারো গ্রাহক জিপির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। অনেকেই এখন জিপির বিকল্প হিসেবে টেলিটকের দিকে ঝুঁকছেন।
দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের (জিপি) বিরুদ্ধে আকর্ষণীয় অফারের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১ পয়সা/সেকেন্ড কলরেটের বিজ্ঞাপন দিয়ে আড়ালে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, গ্রাহকের অজান্তেই টাকা ও মেগাবাইট গায়েব হওয়া এবং অ্যাপ আপডেটের অজুহাতে দায় এড়ানোর মতো একাধিক ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শেখ মাসুদ রানা ও 'টেকটক মাহতাব হোসেন সুদীপ'-এর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের পর। মাহতাব হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী (যিনি নিজেও একজন জিপি রিটেইলার) জানান, গত মে মাসে তিনি ৯৮৯ টাকা রিচার্জ করে ১ পয়সা/সেকেন্ড (১ সেকেন্ড পালস) অফারটি নেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মিনিটে ৬০ পয়সা কাটার কথা থাকলেও তার অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হচ্ছিল ৮৪ পয়সা। জিপি কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেও সমাধান না পেয়ে তিনি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অনলাইন অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর জিপি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, গ্রাহক 'মাইজিপি' অ্যাপ আপডেট না করায় অতিরিক্ত চার্জ দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু প্রমাণসহ ভুক্তভোগী দেখান যে, অফার নেওয়ার ১০ দিন পর জিপির আপডেট এসেছিল, যা সম্পূর্ণ অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ফেসবুক ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার ভুক্তভোগী গ্রাহক জিপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। মশিফুর রহমান নামের এক গ্রাহক জানান, তিনি এক বছরের জন্য ১ পয়সা সেকেন্ড কলরেট নিলেও চার-পাঁচটি নম্বরে কথা বলার পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১ টাকা ৮০ পয়সা রেট চালু হয়ে যায়, যা জিপির টাকা খাওয়ার নতুন ফন্দি। আয়ন আইচ নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, অ্যাপে ১ পয়সা দেখালেও এসএমএসে ১.৮০ টাকা কাটার মেসেজ আসছিল। রকিবুল ইসলাম নামের এক গ্রাহকের অভিযোগ, কোনো কিছু চালু না করতেই মাত্র ৬ মিনিটে তার ২০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
শুধু কলরেটই নয়, ইন্টারনেটের গতি ও প্যাকেজ নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘ। তুষার সরকার নামের এক ব্যবহারকারী ১০০ টাকায় ৫ জিবি কিনে ৫ এমবিও ব্যবহার করতে পারেননি ইন্টারনেটের চরম ধীরগতির কারণে। ফয়সাল আহমেদ নামের একজন ১০০ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজের ১৫০ টাকা ক্যাশব্যাক অফার কিনে মাত্র ৫০ টাকা পেয়েছেন বলে জানান। এছাড়া অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের অজান্তেই বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়ে প্যাকেজ অ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে, এমনকি অ্যাপ ইনস্টল না থাকা সত্ত্বেও এই জালিয়াতি ঘটেছে।
জিপির এই লাগামহীন 'ডিজিটাল ডাকাতি' ও চড়া মূল্যের ইন্টারনেটের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কাস্টমার কেয়ারের 'টেকনিক্যাল সমস্যা'র অজুহাতে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। আর এই ক্ষোভের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এখন রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের গুণগান করছেন। গ্রাহকদের মতে, নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা থাকলেও কলরেটের ক্ষেত্রে টেলিটক অনেক সাশ্রয়ী ও সৎ, এবং ইন্টারনেটের জন্য রবি বা এয়ারটেল অনেক ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকেরা এই "মডার্ন ডাকাতি" বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন।
//ডিবিটেক/এসআই/এমাই্//





