লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার দাবি

লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে ঘোষণা এবং শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছে বেলিয়া। সংগঠনটির মতে, উচ্চ শুল্ক আবাসন খাতের ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার দাবি
১৭ জুন, ২০২৬ ১৪:৩১  

লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় ক্যাপিটাল মেশিনারিজ (মূলধনী যন্ত্রপাতি) হিসেবে ঘোষণা এবং বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)। সংগঠনটির দাবি, এ পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

১৭ জুন, বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, বর্তমান নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ, শিল্পায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিফট কোনো বিলাসপণ্য নয়; এটি একটি অপরিহার্য মূলধনী যন্ত্রপাতি।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে লিফটকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ শ্রেণি থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরেও শুল্কহার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। এর ফলে ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে লিফট আমদানির ওপর মোট শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

তার দাবি, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আবাসন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে অনেক লিফট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সংকুচিত বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে ঘোষণা, লোড ফ্যাক্টর প্রতি কেজি ৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ, স্থানীয় উৎপাদনের নামে আমদানিকৃত কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি, বন্দর পর্যায়ে স্কেলিং, মূল্যায়ন ও পণ্য ছাড় প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ লিফট আমদানির জন্য শুল্ক ও কর কাঠামোর সংস্কার।

বেলিয়ার নেতারা বলেন, উচ্চ শুল্কের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে নিম্নমানের বা পুনর্নবীকরণ করা (রিকন্ডিশনড) লিফট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। শুল্ক যৌক্তিক করা হলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ ও টেকসই লিফট সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানি করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, লিফট আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর আরোপের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আবাসন খাত ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বহুতল ভবনে লিফট স্থাপনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের মূল্যও বাড়ছে। এতে মধ্যবিত্তের জন্য নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্মার্ট সিটি গঠন এবং নিরাপদ অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে লিফট খাতের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াদুল হক, উপদেষ্টা এমদাদ উর রহমান, সহ-সভাপতি অসীম সরকার, পরিচালক মোহাম্মদ জাকিরুল হক এবং চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মো. ইউসুফ নবী।

বক্তারা বলেন, লিফটের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে আবাসন খাতে ব্যয় বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়ছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের লিফট ব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

//ডিবিটেক/আরপি/ইকে//