এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ারে ভূষিত এপেক্স ফুটওয়্যার
রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো 'এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার' সহ তিনটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে এপেক্স ফুটওয়্যার। সিঙ্গাপুরে পুরস্কার গ্রহণ করেন সিইও ফিরোজ মোহাম্মদ।
দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সফল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাদূকা প্রস্তুতকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ এবার প্রথমবারের মতো ‘এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই নতুন সাফল্যের পাশাপাশি টানা তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক এই সম্মাননা মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে ‘ফুটওয়্যার রিটেইলার অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘সাসটেইনেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ সহ মোট তিনটি শীর্ষস্থানীয় ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেছে এপেক্স। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানটি রিটেইলার ও সাসটেইনেবিলিটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল।
৪ জুন, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় সিঙ্গাপুরে জমকালো এক অনুষ্ঠানে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফিরোজ মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন এপেক্সের হেড অব মার্কেটিং মো. রায়হান কবির এবং হেড অব রিটেইল বিজনেস আরবাবুর রহমান। রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস প্রতিবছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের খুচরা বিক্রয় (রিটেইল) খাতে অসামান্য সাফল্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও দূরদর্শী নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। ইওয়াই-পার্থেনন, ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনাল, কেপিএমজি, আরএসএম সিঙ্গাপুর, কার্নেই এবং পিডব্লিউসি অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল এবার এপেক্সের সামগ্রিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করেন।
এ বছর প্রথমবারের মতো ‘এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে দেশের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির চালু করা ‘এপেক্স এআই স্টাইলিস্ট’ উদ্যোগটি। বাংলাদেশের খুচরা বাজারে সম্পূর্ণ নতুন ও বৈপ্লবিক এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রায় ৮৩ হাজারের বেশি সেশন সম্পন্ন হয়েছে। এই এআই-নির্ভর আধুনিক পরামর্শ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজারবার ক্রেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করতে সহায়তা করা হয়েছে; যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৯ হাজার ৫০০টি ডিজিটাল অর্ডার সম্পন্ন হয় এবং এতে গ্রাহক সন্তুষ্টির হার ছিল সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
এই প্রযুক্তিগত ও পরিবেশবান্ধব সাফল্যের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এপেক্সের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতেও। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র এক দিনেই ৫৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিক্রির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে। বর্তমানে সারা দেশে এপেক্সের নিজস্ব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৫০০টি ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে ঈদকেন্দ্রিক নিখুঁত ও কৌশলগত বিপণনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এপেক্সের বিশাল রিটেইল নেটওয়ার্কের আওতায় ৭০ লাখের বেশি নিয়মিত ক্রেতা রয়েছেন, যার মধ্যে ৫৮ লাখ নিবন্ধিত লয়্যালটি গ্রাহকের প্রায় ৫৭ শতাংশই নিয়মিতভাবে বারবার এপেক্স থেকে কেনাকাটা করছেন।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব গ্রিন ইনিশিয়েটিভ বা টেকসই ও সবুজ শিল্পায়নেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এপেক্স। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৪৬ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি সাশ্রয় করছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (LWG) গোল্ড সনদপ্রাপ্ত বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি পরিচালনা করছে তারা। কারখানায় পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিইটি-টু-প্রোডাক্ট সার্কুলার ইকোনমি উদ্যোগের আওতায় ৪৫১ টন প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (Recycle) করে গত এক বছরে ২ হাজার ৫০৭ দশমিক ২০ টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়েছে এপেক্স, যা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বমঞ্চে এই গৌরবময় অর্জন প্রসঙ্গে এপেক্সের সিইও ফিরোজ মোহাম্মদ বলেন, “আন্তর্জাতিক ও বিশ্বমঞ্চে একটি বাংলাদেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এভাবে স্বীকৃতি পাওয়া পুরো এপেক্স পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। টানা তিন বছর ধরে রিটেইল এশিয়া আমাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মানিত করছে, যা আমাদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই অনন্য অর্জন মূলত এপেক্সের মাঠপর্যায়ের পরিশ্রমী কর্মী ও আমাদের কোটি গ্রাহকদের সম্মিলিত ভালোবাসারই এক যথার্থ প্রতিফলন।”
/ডিবিটেক/ বিসিআর/ ইকে/





