দক্ষ জনবল তৈরি ও শিল্পখাতের মেলবন্ধনে আইইবিতে দুই দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন’ শুরু

দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে রমনার আইইবি সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে ‘আইইবি জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’। শনিবার সকালে এর উদ্বোধন করেন আইইবি প্রেসিডেন্ট ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি জানান, শুধু ডিগ্রি দিয়ে চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়, তাই কোম্পানিগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বাড়াতে আইইবি কাজ করছে। মেলায় তরুণদের চাকরির সুযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্

দক্ষ জনবল তৈরি ও শিল্পখাতের মেলবন্ধনে আইইবিতে দুই দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন’ শুরু
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:১৩  

দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতকদের সংখ্যা প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে বাড়লেও কর্মবাজারে দক্ষতার মারাত্মক অমিল, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের সুনির্দিষ্ট চাহিদা এবং মানসম্মত চাকরির সীমিত সুযোগ নিয়ে তরুণদের মাঝে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য সরাসরি চাকরির বিপুল সুযোগ সৃষ্টি, অ্যাকাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার দূরত্ব হ্রাস এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনবল গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মেগা ‘জব ফেয়ার এবং প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’।

১৩ জুন, শনিবার সকালে রাজধানীর রমনায় আইইবির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্যারিয়ার উৎসব ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই বিশেষ জব ফেয়ারের লক্ষ্য কেবল কিছু চাকরিপ্রত্যাশীকে কর্মসংস্থান দেওয়া নয়; বরং তরুণ প্রকৌশলীদের বর্তমান কারিগরি দক্ষতা এবং আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব চাহিদার মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সংযোগ তৈরি করা।”

প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) দেশের বর্তমান জব মার্কেটের তীব্র প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন খাতের স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এবারের জব ফেয়ারে সরাসরি অংশ নিয়েছে, যা আমাদের তরুণদের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে বর্তমান সময়ে শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট থাকলেই চাকরি পাওয়া সহজ নয়। কোম্পানিগুলোর আধুনিক প্রযুক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করা এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রকৌশলীরা যাতে আধুনিক শিল্প, অটোমেশন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রতিনিয়ত আপগ্রেড করতে পারেন, আইইবি সেদিকেই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।” আইইবির দূরদর্শী পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দেশের প্রকৌশলীদের জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং বিস্তৃত আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অর্থনৈতিক ও শিক্ষা খাতের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী স্নাতক সম্পন্ন করে বের হচ্ছেন। তবে চাকরিদাতা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই অভিযোগ করে আসছে যে, অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও স্নাতকদের অর্জিত তাত্ত্বিক দক্ষতা শিল্পখাতের বাস্তব ও প্রায়োগিক প্রয়োজনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন, স্মার্ট অবকাঠামো নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)–সংশ্লিষ্ট হাই-টেক খাতে নতুন নতুন দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই জটিল প্রেক্ষাপটে আইইবির এই অনন্য আয়োজন একদিকে যেমন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ প্রকৌশলীদের সামনে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্পোরেট দরজা সরাসরি খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রজেক্ট কম্পিটিশনের মাধ্যমে তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা, কারিগরি সমাধান এবং গবেষণাভিত্তিক কাজগুলো সরাসরি বড় বড় শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরার এক দারুণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক এবং আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এস অ্যান্ড ডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া ও উক্ত উপ-কমিটির সদস্যসচিব এবং আইইবি উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের সম্পাদক প্রকৌশলী ইসরাত জাহান (জেসমীন)।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রকৌশল সমাজের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরসেদ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ টি এম তানবীর-উল হাসান (তমাল), সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সাব্বির মোস্তফা খান, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একাডেমিক অ্যান্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে এম আসাদুজ্জামানসহ আইইবির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ।

শিক্ষা ও শিল্প খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগত শিক্ষা সিলেবাস এবং আধুনিক শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান বিশাল ব্যবধান বা গ্যাপ কমানো এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রকৌশল খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আইইবির এই সময়োপযোগী আয়োজন যদি তরুণদের বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পখাতের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনকে একসঙ্গে একই সুতোয় গেঁথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তবেই তা দেশের প্রকৌশলীদের টেকসই কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণে এক যুগান্তকারী ও বাস্তব প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।

//ডিবিটেক/এসআই/এমাই//