বাকৃবিতে ১৭৭ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীর মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ১৭৭ শিক্ষার্থীর মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দক্ষ ভেটেরিনারি চিকিৎসক তৈরিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ করা হয়েছে।
১৫ জুন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগ।
সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মো. শহিদুল হক, বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ এবং ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবুর রহমান বলেন, ভেটেরিনারি শিক্ষা একটি বিশেষায়িত মেডিকেল পেশা, যা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাণী চিকিৎসা একটি চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সফল হতে সার্জারি ও মেডিসিনে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দক্ষ ভেটেরিনারি চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, কিট বক্স ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি সংগ্রহে রাখাই যথেষ্ট নয়, বাস্তব চিকিৎসা কার্যক্রমে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিভিন্ন কেসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দক্ষ সার্জন হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, একজন ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটকে ২২টি বিভাগের কোর্স সম্পন্ন করতে হয়, যা তাকে বহুমাত্রিক ও চ্যালেঞ্জিং কর্মক্ষেত্রে কাজের উপযোগী করে তোলে। সিমাগো র্যাংকিংয়ে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম এবং এশিয়ায় ৯২তম স্থান অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা জিএস প্যাক ও কিট বক্সের যন্ত্রপাতির মান আগের তুলনায় উন্নত করা হয়েছে এবং নতুন কিছু যন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে, যা অধিকাংশ সার্জিক্যাল কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে ৪৫০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া কিট বক্সের বাজেট বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হলেও বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল। ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
//ডিবিটেক/এএইচ/ইকে//





