আমিনবাজার এসিল্যান্ড অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী
ভূমি সেবায় দীর্ঘসূত্রতা ও সার্ভার জটিলতায় অসন্তোষ,
ডিজিটাল ভূমি সেবাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই সাভারের আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, নাগরিক সেবায় দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
৮ জুন, সোমবার সাভারের আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সেবার মান, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির চিত্র তার নজরে আসে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু অফিসে সময়মতো উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। জনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং সেবাদানে গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নাগরিকরা অভিযোগ করেন, নামজারি (মিউটেশন) ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পেতে তাদের বারবার অফিসে আসতে হচ্ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেবা সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে হয়রানিরও শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যাচাই করতে কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশও দেন।
পরিদর্শনকালে তথ্যকেন্দ্র-কাম-হেল্প ডেস্কের কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে রেকর্ড কিপিং ও ডেটা এন্ট্রি ইউনিটের কর্মকর্তাদের যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি কার্যালয়ের বিভিন্ন রেকর্ডরুম পরিদর্শন করে নথি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির খোঁজখবর নেন।
নামজারি ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবার কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে মিউটেশন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী সার্ভার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে তথ্যকেন্দ্রকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেন তিনি। ডিজিটাল ভূমি সেবার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি সেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সেবাপ্রদান ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করা হবে।
//ডিবিটেক/আরকে/এমইউএম//





