সরকার বলছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেফতার; এআই ফেস রিকগনিশনের দাবি এসেছে পুলিশ সূত্রে

এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের?

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিতে শনাক্ত হওয়ার দাবি সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের?
১৪ জুন, ২০২৬ ১৮:১৭  

দুর্নীতি ও অর্থপাচার–সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।

তবে গ্রেফতারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি প্রযুক্তির বিষয়টি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর। কিন্তু ট্রানজিট চলাকালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি শনাক্ত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দুবাই পুলিশের বরাতে জানান, ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীদের মতোই তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত শনাক্ত করে।

এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যে তাকে আটক করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি গত ১২ জুন বাংলাদেশকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানায় যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দেশটির পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ইন্টারপোলে আবেদন পাঠায় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়।

একসময় দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালে তার ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে। আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন সময়ে জমি, ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যাংক হিসাব জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়।

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়।

//ডিবিটেক/ডিপিও/ইকে//