বিশ্বব্যাংক যুব সম্মেলনে দুই বাংলাদেশি
ডিজিটাল যুগের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণ নেতৃত্বের বৈশ্বিক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন দুই তরুণ। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ ইয়ুথ সামিট ২০২৬’-এ সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ তৌফিক এলাহী এবং তিশা খন্দকার। আগামী ১১ ও ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদীয়মান তরুণ নেতা, উদ্ভাবক, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনকে যুব উন্নয়ন ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী সংলাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ফিউচারওয়ার্কস: ডিজিটাল যুগের জন্য কর্মসংস্থান নকশা’, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, ভবিষ্যতের চাকরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হওয়ায় প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। সেই বাছাই প্রক্রিয়ায় সফল হয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছেন মোঃ তৌফিক এলাহী এবং তিশা খন্দকার। তাদের এই অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনে উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী এবং তরুণ প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কার্যকর সমাধান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইয়ুথ সামিটের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের এমন দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রদান করা, যা তাদের নিজ নিজ দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এ আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো তরুণ এই সম্মেলনে অংশ নেন। সামিটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১৭০টিরও বেশি দেশের ১০ হাজারের বেশি সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক, যা জ্ঞান বিনিময়, সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি তরুণদের উপস্থিতি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। মোঃ তৌফিক এলাহী এবং তিশা খন্দকারের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যুবসমাজের নেতৃত্ব, মেধা এবং সম্ভাবনার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
// ডিবিটেক/ইমাম হোসেন/এমইউআইএম //





