বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস:
সংবর্ধিত হচ্ছে রোবটিক্সে বিশ্বসেরা ইউআইইউ মার্স রোভার টিম
বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মহাকাশ রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ইউনিলভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬’-এ বিশ্বমঞ্চে ৩য় স্থান (পডিয়াম ফিনিশ) অর্জন করেছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’ (UMRT)। ইউআরসি (URC) ২০২৬-তে এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে সেরা স্থান দখল করেছে।
৭ জুন, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্বজয়ী এই তরুণদের রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাতে এবং এই ঐতিহাসিক অর্জনকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে খুব বিশেষ অফিসিয়াল হোমকামিং উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশল খাতের এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে ক্যামেরাবন্দী করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেশের গণমাধ্যম ও ক্যামেরা ক্রুদের।
তবে তার আগেই এই ঐতিহাসিক গৌরবগাথা এবং তাদের রোভারের চমৎকার পারফরম্যান্সের এক ঝলক দেখে নেয়া যেতে পারে এখন থেকেই।
এর আগে গত ২৭ থেকে ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ-র ‘মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশন’-এ চূড়ান্ত পর্বের এই অন-সাইট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দ্য মার্স সোসাইটি, ইউএসএ আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ২০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এশিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক এই মঞ্চে সেরা তিনের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে পডিয়ামে ওঠার গৌরব অর্জন করে।
বিশ্বসেরাদের হারিয়ে টানা ৫ বছর এশিয়ায় শীর্ষস্থান
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিকভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কড়া বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল প্রতিযোগিতায় লড়ার সুযোগ পায় ১৫টি দেশের মাত্র ৩৮টি দল। সেখানে বিশ্বখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে ৪০০.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানটি ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশের ইউআইইউ মার্স রোভার টিম। ৪৬৯.৫৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ৪১২.৪১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি।
এই গৌরবের মাধ্যমে ইউআইইউ মার্স রোভার টিম ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর এশিয়া মহাদেশের এক নম্বর দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখল। উল্লেখ্য, এবারের আসরে বাংলাদেশের আরও কয়েকটি দল চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছে; যার মধ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘মঙ্গল-তরী’ সপ্তম এবং এমআইএসটির ‘মঙ্গল বারোতা’ ১১তম স্থান অর্জন করেছে।
'বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম' স্বীকৃতি
প্রতিযোগিতায় সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন, অটোনোমাস নেভিগেশন, এক্সট্রিম টেরেন ট্রাভার্সাল এবং ইকুইপমেন্ট সার্ভিসিং—এই ৪টি জটিল মিশনে রোভারের কার্যকারিতা ও পরিচালনা দক্ষতা যাচাই করা হয়। ইউআইইউর তৈরি এই রোভারটি তার চমৎকার পাথ প্ল্যানিং, কম্পিউটার ভিশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত ব্যবহারের জন্য প্রতিযোগিতার বিশেষ ‘বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম রিকগনিশন’ (Best Autonomous System Recognition) খেতাবে ভূষিত হয়েছে।
ইউআইইউ-এর সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রোবটিক্স (CAIR)-এর অধীনে পরিচালিত এই দলটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসান সারওয়ার, সিএসই বিভাগের প্রধান ড. সুমন আহম্মেদ এবং মেন্টর হিসেবে ছিলেন সিএসই বিভাগের প্রভাষক মো. আবিদ হোসেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/ এমইউএম//





