বাস্তবমুখী গবেষণায় আনলিমিটেড ফান্ডের প্রতিশ্রুতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবের

বাস্তবমুখী গবেষণায় আনলিমিটেড ফান্ডের প্রতিশ্রুতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবের
৮ জুন, ২০২৬ ২২:৪৩  

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষকদের ঢালাও বিষয়ের পরিবর্তে খাত-ভিত্তিক (সেক্টর স্পেসিফিক) ও ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্ধারণ করে গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। ৯ জুন, সোমবার ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, যেসব প্রজেক্টের বাস্তব ইমপ্যাক্ট বা ফলাফল আনা সম্ভব, সে ধরনের গবেষণায় প্রয়োজনীয় ফান্ডের কোনো ঘাটতি হবে না এবং সরকার চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ দেবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত “২০২৪-২৫ অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) প্রকল্পসমূহে অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকগণের গবেষণা কার্যক্রম অবহিতকরণ বিষয়ক সেমিনার-২০২৬” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মূলত গবেষণার মান উন্নয়ন এবং এর ফলাফলকে জনকল্যাণে রূপান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব তাঁর বক্তৃতায় ভিয়েতনামের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিগত আশির বা নব্বইয়ের দশকে ভিয়েতনাম অর্থনৈতিকভাবে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও শুধু প্রযুক্তি ও গবেষণায় জোর দেওয়ার কারণে তারা আজ অনেক এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশেও যেসব সেক্টরে তুলনামূলক সুবিধা (কম্পারেটিভ অ্যাডভান্টেজ) রয়েছে, সেগুলোকে গবেষণার মাধ্যমে ক্যাপিটালাইজ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।

নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল বাসেত এবং এপেক্স ফুটওয়্যার লেদার গুডসের রিসার্চ পলিসি ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি মাহমুদা সুলতানা বক্তব্য দেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. রোকেয়া বেগম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইলিয়াস এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষক টুম্পা সাহা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ গবেষণা পেপার উপস্থাপন করেন।

প্রসঙ্গত, , বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মাঝে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক (R&D) প্রকল্পের অধীনে অনুদান প্রদান করে। এটি মূলত চারটি গ্রুপে (জীব ও চিকিৎসাবিদ্যা, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিজিক্যাল সায়েন্স এবং এগ্রিকালচার ও এনভায়রনমেন্ট) বিভক্ত করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। যেখানে সাধারণত প্রতি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকে, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩৪৬টি প্রকল্পের অনুকূলে ২ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আজকের এই সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/ এএলএম/ এমআইএম//