ডিমলায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন প্রদর্শনীতে প্রথম ডিমলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
নীলফামারীর ডিমলায় মাউশির PBGSI কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ডিমলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রথম স্থান অর্জন করে এবং ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক্যাল কলেজ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়। নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন এবং শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যা পরিহার করে প্রযুক্তিনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়
“মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই সুদূরপ্রসারী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডিমলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো উপজেলা পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী। এতে খুদে বিজ্ঞানীদের মেধার তুমুল লড়াই শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রদর্শনীতে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর দুর্দান্ত মডেল ও দূরদর্শী আইডিয়া প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব লাভ করেছে ডিমলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিযোগিতায় অনন্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক্যাল কলেজ তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
এর আগে ১২ জুন, শুক্রবার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কমপ্লেক্সে ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন ‘এডুকেশনাল ওরিয়েন্টেশন অ্যান্ড সাপোর্ট স্কিম (EESS-SEDP)’-এর বিশেষ সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিজ্ঞান উৎসবে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুদে বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা অংশ নেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘পারফরম্যান্স বেইজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস (PBGSI)’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী “Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing for Secondary Level Students and Teachers” শীর্ষক এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো শিক্ষার্থীদের সুপ্ত সৃজনশীলতা, আধুনিক উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি, বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানের কারিগরি দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে অনন্য সহায়তা করা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যেকোনো শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রতিটি নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুইজন গাইড শিক্ষক নিয়ে গঠিত দল উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তাদের মেধা অনুযায়ী স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে। মোট ৪৬টি বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। প্রতিটি স্টলে ছিল নতুন চিন্তা, বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
দিনব্যাপী চলা এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক কৃষি উন্নয়ন, দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যকারিতা এবং মানুষের নানাবিধ সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে চমৎকার সব উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্যে স্টার্টআপ বিভাগে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবসায়িক ও সেবাধর্মী ধারণা, বিজ্ঞান প্রকল্প বিভাগে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মডেল এবং উদ্ভাবনী ধারণা বিভাগে বাস্তবমুখী নতুন চিন্তার নিখুঁত প্রতিফলন দেখা গেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, “বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী উদ্ভাবনই আজকের আধুনিক বিশ্বের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে এবং তাদের নতুন চিন্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই আগামী দিনে গড়ে উঠবে এক দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।” সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “একটি বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তি-বান্ধব ও গবেষণাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশের মধ্য দিয়েই উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ আরও বেশি সুগম হবে।”
আনুষ্ঠানিক সভা শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সরাসরি তাদের মুখ থেকে খোঁজখবর নেন। নিজেদের দীর্ঘদিনের গবেষণাকর্ম ও বাস্তবমুখী উদ্ভাবন এমন বড় প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপনের সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমান, উপজেলা সেক্রেটারি রুকনুজ্জামান বকুল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা বেগম এবং মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আমির বোরহানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সুধীজন ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
//ডিবিটেক/ডিপি/এমই//





