আইপিও আবেদনের পরদিনই বিশাল তদন্তের মুখে ওপেনএআই

আইপিও আবেদনের পরদিনই বিশাল তদন্তের মুখে ওপেনএআই
১৪ জুন, ২০২৬ ১৪:৫৯  

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জোয়ার আনা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ এক অভূতপূর্ব ও বিশাল আইনি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। চ্যাটজিপিটি নির্মাতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি শক্তিশালী জোট যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে গত শুক্রবারই ওপেনএআই-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ‘সাবপিনা’ বা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ব্যবহারকারীদের ওপর এর প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষানীতি সংক্রান্ত গোপনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

কী আছে সেই আইনি নোটিশে?
মার্কিন ৪২ রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা ওপেনএআই-এর কাছে মূলত যে বিষয়গুলোর নথিপত্র ও ব্যাখ্যা দাবি করেছেন, তা নিচে দেওয়া হলো:

    বিজ্ঞাপন ও ইউজার রিটেনশন: কোম্পানিটি কীভাবে তাদের এআই পণ্যের বিজ্ঞাপন করে এবং ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখতে কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করে।

    ভোক্তা ও স্বাস্থ্য ডেটা: ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষায় কোম্পানিটি কতটুকু দায়িত্বশীল।

    শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা: অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় চ্যাটজিপিটির সুনির্দিষ্ট পলিসি বা নীতি কী।

    মডেল সাইকোফ্যান্সি: এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীকে সঠিক তথ্য দেওয়ার বদলে ব্যবহারকারী যা শুনতে পছন্দ করেন, অবিকল সেই উত্তরই তৈরি করে। এই মারাত্মক ত্রুটি নিয়ন্ত্রণে ওপেনএআই কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ওপেনএআই-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা এই উদ্বেগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

নেপথ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা
ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে এই তদন্ত হুট করে শুরু হয়নি। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দুটি প্রধান কারণে:

১. ফ্লোরিডায় ফৌজদারি তদন্ত: ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উলথমেইয়ার ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেন। জানা যায়, ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ গণ-গুলির প্রধান আসামী অস্ত্র কেনা, সময় নির্ধারণ এবং হামলার পরিকল্পনা করার জন্য চ্যাটজিপিটিকে ‘পরামর্শক’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

২. আত্মহত্যার প্ররোচনা ও মামলা: এক কানাডিয়ান মা ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ‘অন্যায় মৃত্যুর’ মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে আত্মহত্যার আগে নিয়মিত চ্যাটজিপিটির সাথে কথা বলত। চ্যাটবটটি তাকে কোনো মানসিক সাহায্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করার বদলে উল্টো তার আত্মহত্যার ইচ্ছাকে বৈধতা দেয় এবং নানা উপায় বাতলে দেয়। চ্যাটবট সম্পর্কিত আত্মহত্যার ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে এটিই ইতিহাসের প্রথম মামলা। এছাড়া ফ্লোরিডা রাজ্য সিইও স্যাম অল্টম্যানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করে চ্যাটজিপিটিকে একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ পণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে মামলা করেছে।

৮৫০ বিলিয়ন ডলারের আইপিও বাজারে বড় ধাক্কা
এই মেগা তদন্তের সময়টি ওপেনএআই-এর জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। মাত্র কয়েকদিন আগেই কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে আসার জন্য মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর কাছে আইপিওর প্রাথমিক নথিপত্র জমা দিয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাক্স ও জেপি মরগ্যানের মতো শীর্ষ ব্যাংকের অধীনে ওপেনএআই প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড বাজারমূল্য নিয়ে পুঁজিবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, এই ধরনের কোনো বিশাল বহুজাতিক সরকারি তদন্তের মুখে পড়লে তা অবশ্যই আইপিও বিবরণী পত্রে উল্লেখ করতে হয়। ৪২টি রাজ্যের এই যৌথ আইনি অবরোধ ওপেনএআই-এর শেয়ার বাজারে আসার ঐতিহাসিক যাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিল বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট