১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য
১৫ জুন, ২০২৬ ০৯:২৮  

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা সুরক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন নীতি ঘোষণা করতে পারেন। এর আগে দেশটির সরকার এমন একটি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করার কথা জানালেও, এবার তা চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের এই নিষেধাজ্ঞাটি অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক মডেলের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), থ্রেডস, স্ন্যাপচ্যাট ও টুইচের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে গেম খেলার অ্যাপগুলোর ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় এসব অ্যাপ থেকে অপরিচিতদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান বা চ্যাট করার সুবিধাটি বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোমান্টিক বা কৃত্রিম চ্যাটবট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা হবে এবং গভীর রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা স্ক্রোলিং ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্য সরকার তাদের বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা ব্যবহার করেই এই নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ বাস্তবায়ন করতে পারবে। তবে আইনটিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে নতুন আইনি বিল বা আইনের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে অনলাইন সুরক্ষার জন্য দেশটিতে বয়স যাচাইকরণ আইনও পাস করা হয়েছিল।

অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট বা কনটেন্টের কারণে শিশুদের ওপর পড়া নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আসছে। যুক্তরাজ্যে এর আগে নির্মমভাবে খুন হওয়া এক কিশোরীর মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, ইন্টারনেটে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখার কারণে তাঁর মেয়ের খাদ্যাভ্যাসে সমস্যা এবং আত্মঘাতী প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

তবে এই ধরনের ঢালাও নিষেধাজ্ঞার কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে। তা ছাড়া এটি শিশুদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে এর কার্যকারিতা কতটুকু, তা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: টেকক্রাঞ্চ